অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম
এমপিওভুক্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে প্রধান শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ১৮ বছরের শিক্ষকতা অভিজ্ঞতার শর্ত নিয়ে তৈরি হওয়া আইনি অচলাবস্থা আপাতত দূর হয়েছে। হাইকোর্টের দেওয়া আগের রায়ের কার্যকারিতা স্থগিত ঘোষণা করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মোহাম্মদ রেজাউল হকের বেঞ্চ। এই আদেশের ফলে ১৮ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন প্রার্থীদের আবেদনের সুযোগ বহাল রেখে সরকারের জারি করা নীতিগত সিদ্ধান্তটি কার্যকর থাকছে এবং ইতোমধ্যে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে অনুষ্ঠিতব্য সংশ্লিষ্ট পরবর্তী পরীক্ষায় অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা থাকছে না।
হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ বা এনটিআরসিএ-র করা আপিল আবেদনের দীর্ঘ শুনানি শেষে মঙ্গলবার চেম্বার আদালত এই স্থগিতাদেশ প্রদান করেন। চলতি বছরের ২৫ মার্চ সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া এক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে এমপিওভুক্ত উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে আবেদনের ক্ষেত্রে ন্যূনতম অভিজ্ঞতা ১৮ বছর নির্ধারণ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সংক্ষুব্ধদের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে সরকারের সেই সিদ্ধান্ত বাতিল ঘোষণা করে রায় দেন হাইকোর্ট।
ওই রায়ের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করে রাষ্ট্রপক্ষ এবং শিক্ষক নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ। শুনানি শেষে হাইকোর্টের রায়ের ওপর স্থগিতাদেশ আসায় সরকার প্রণীত ১৮ বছরের অভিজ্ঞতার নতুন বিধিমালাই কার্যকর বহাল থাকছে। ফলে পূর্বে অনুষ্ঠিত লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীরা কোনো প্রকার আইনগত অনিশ্চয়তা ছাড়াই আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে নির্ধারিত পরবর্তী ধাপের পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছেন। দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রধান শিক্ষকসহ প্রশাসনিক শীর্ষ পদগুলো শূন্য পড়ে রয়েছে।
চলতি বছরের ২৯ জানুয়ারি প্রকাশিত আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে প্রধান শিক্ষক পদে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ২৭৮টি। এছাড়া কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ ও সুপার পদে প্রায় ১৫০টি পদ শূন্য ছিল। একই বিজ্ঞপ্তির আওতায় মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, সুপার ও সহকারী সুপারসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে তিন হাজার ১৩১টি শূন্য পদের তথ্য তুলে ধরা হয়েছিল। সব মিলিয়ে ওই বিজ্ঞপ্তির সময় মাধ্যমিক ও সমমানের স্তরে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ হাজার ৫৫৯টি।
চেম্বার আদালতের মঙ্গলবারের আদেশের ফলে মাধ্যমিক স্তরে বছরের পর বছর ধরে চলা প্রধান শিক্ষকের বিশাল শূন্যতা পূরণ এবং প্রশাসনিক স্থবিরতা কাটিয়ে নিয়োগপ্রক্রিয়ায় গতি ফেরার পথ উন্মুক্ত হলো। আদালত মামলায় অংশ নেওয়া রিট আবেদনকারীদের স্বার্থের সুরক্ষাও নিশ্চিত করেছেন। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মূল রিট আবেদনকারী ৪৬ জন প্রার্থীর জন্য ৪৬টি পদ নির্দিষ্টভাবে সংরক্ষণের সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছেন।
ফলে ওই সংরক্ষিত ৪৬টি পদ আলাদা রেখে বাকি সব শূন্য পদে সরকার নির্বিঘ্নে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারবে এবং এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের সামনে কোনো ধরনের আইনি বাধা অবশিষ্ট রইল না। আদালতের এই স্পষ্ট নির্দেশনার পর আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে প্রধান শিক্ষক নিয়োগের বাকি পরীক্ষা ও নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আর কোনো জটিলতা থাকছে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন