মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর, ২০২৬,

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু: ৪ ঘণ্টা বিক্ষোভ

মো: মামুনুর রশিদ

অক্টোবর ৬, ২০২৬, ০৪:২০ পিএম

পঞ্চগড়ে প্রধান শিক্ষকের মৃত্যু: ৪ ঘণ্টা বিক্ষোভ

ছবি: দিনাজপুর টিভি

পঞ্চগড় সদর উপজেলার মীরগড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর আজিমের আকস্মিক মৃত্যুর ঘটনায় বিদ্যালয়ের দুই সহকারী শিক্ষককে দায়ী করে ক্যাম্পাসে ঢুকে চার ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা। মঙ্গলবার সকাল নয়টা থেকে দুপুর একটা পর্যন্ত চলা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে সহকারী শিক্ষক আকলিমা আক্তারকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। টানা চার ঘণ্টা অচলাবস্থা তৈরি হওয়ায় বিদ্যালয়ের পাঠদানসহ সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকে।

বিক্ষোভের খবর পেয়ে পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা সুলতানা এবং সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত আশীষ কুমার শীলের নেতৃত্বে যৌথ প্রশাসনিক দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। প্রশাসনের কর্মকর্তারা বিক্ষুব্ধ জনতা ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলে আনীত অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট আশ্বাস দিলে দুপুর একটার পর পরিস্থিতি শান্ত হয় এবং আন্দোলনকারীরা বাড়ি ফিরে যান।

বিক্ষোভকারী স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনসহ প্রাতিষ্ঠানিক বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে প্রধান শিক্ষক নুর আজমকে দীর্ঘদিন ধরে মানসিক হেনস্থা ও নানা ধরনের হুমকি দিয়ে আসছিলেন সহকারী শিক্ষক মো. শাহাজুল ইসলাম ও আকলিমা আক্তার। সহকর্মীদের ক্রমাগত চাপ ও মানসিক উদ্বেগের কারণেই সোমবার দুপুরে তিনি গুরুতর হৃদরোগে আক্রান্ত হন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সোমবার রাতেই এই প্রবীণ প্রধান শিক্ষকের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়। পরদিন মঙ্গলবার সকালে শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়ে স্থানীয় জনতা ও অভিভাবকরা সরাসরি বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জড়ো হন। তারা প্রধান শিক্ষকের মৃত্যুর পেছনে দায়ী চিহ্নিত দুই শিক্ষক এবং তাদের নেপথ্য সহযোগীদের অবিলম্বে দৃষ্টান্তমূলক বিচার ও চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে অবরুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হলেও পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সক্রিয় মধ্যস্থতায় বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।