অক্টোবর ১৪, ২০২৬, ০৬:১৩ পিএম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের দৃশ্যমান অগ্রগতি এবং দেশটি থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য আমদানির বাস্তবতায় বাংলাদেশের জন্য মার্কিন সহায়তা আরও বাড়ানো উচিত বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
বুধবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
বৈঠকে দুই দেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, মার্কিন আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা এবং সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারের বিষয়ে বিশদ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক বা এক্সিম ব্যাংক এবং দেশটির বিভিন্ন উন্নয়ন ও সহায়তাসংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা সেরেছেন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের প্রধান।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিগত দিনে যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা সেভাবে পাওয়া যায়নি। তবে বর্তমানে দুই দেশের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বেশ দূর এগিয়েছে। বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক উড়োজাহাজ কিনছে এবং বিপুল পরিমাণে জ্বালানি তেল ও সয়াবিনসহ নানাবিধ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি করছে। ফলে স্বাভাবিক নিয়মেই ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বাড়তি সহায়তা আসা জরুরি। মার্কিন প্রতিনিধিরা এই যুক্তির সঙ্গে নীতিগতভাবে একমত হয়েছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক নীতিতে ঋণের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ ও যৌথ বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে সরকার সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, আন্তর্জাতিক অর্থায়নে শুধু ঋণ নেওয়ার পুরোনো ধারা থেকে সরে এসে উৎপাদনমুখী সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ এবং যৌথ উদ্যোগের দিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের এক্সিম ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও এ বিষয়ে দীর্ঘ ও ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে এবং বাংলাদেশ এই কৌশলগত পথে দ্রুত এগিয়ে যেতে পারবে বলে তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন।
আমদানি বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে লেনদেনের ভারসাম্যে যে প্রভাব পড়ছে, সেদিকে ইঙ্গিত করে অর্থমন্ত্রী বলেন, উড়োজাহাজ, তেল ও সয়াবিনের মতো বড় অংকের কেনাকাটা দুই দেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগকে যেমন গভীর করছে, তেমনি বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্যের ভারসাম্যেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
তিনি মার্কিন প্রতিনিধিদের উদ্দেশে স্পষ্ট করে বলেছেন, বাংলাদেশ যখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে এত বিপুল পরিমাণ পণ্য কেনা অব্যাহত রেখেছে এবং পারস্পরিক সম্পর্ক যখন নতুন উচ্চতায় উঠেছে, তখন এই সময় সহযোগিতা না এলে ভবিষ্যতে আর কখন আসবে। ফলে প্রত্যাশিত সহায়তা এখনই কার্যকর হওয়া উচিত।
আমেরিকান কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশের এই দাবি ও অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছে জানিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাদের দিক থেকে নীতিগত সম্মতি মিললেও বাস্তবে এই সহায়তা কতটা কার্যকর হবে এবং কীভাবে বাস্তব রূপ পাবে, তা পরবর্তী অগ্রগতির ওপর নির্ভর করছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন