বৃহস্পতিবার, ০৮ অক্টোবর, ২০২৬,
শিশু একাডেমি

সৃজনশীল অর্থনীতি প্রসারে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ৮, ২০২৬, ০৭:৪৫ পিএম

সৃজনশীল অর্থনীতি প্রসারে কাজ করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

শিশুদের মেধা, সৃজনশীলতা ও সাংস্কৃতিক বিকাশের পাশাপাশি দেশে সৃজনশীল অর্থনীতি বা ক্রিয়েটিভ ইকোনমি প্রসারে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ শিশু একাডেমিতে প্রতিষ্ঠানটির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এমন একটি প্রতিষ্ঠান, যা শিশুদের ভবিষ্যৎ গঠনের পথরেখা নির্ধারণ করে। দেশের শিশুরা কীভাবে গড়ে উঠবে এবং তাদের জীবন গঠনে সরকার কী ভাবছে, তার প্রতিফলন এই প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে রয়েছে।

শিশুদের মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের পরিবার, প্রকৃতি, পরিবেশ, পশুপাখি ও কীটপতঙ্গের প্রতি সংবেদনশীল হতে হবে। প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মানবিক একজন মানুষ। জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাণিসম্পদ রক্ষায় প্রতিটি উন্নয়ন প্রকল্পে বিশেষ নজর দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন।

নারীর ক্ষমতায়ন এবং ছেলে-মেয়ের সমঅধিকার প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী নিজের পরিবারের উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, তার ছেলে ও মেয়েকে উচ্চশিক্ষার জন্য সমান সুযোগ দেওয়া হয়েছে। একইভাবে সম্পত্তিতেও তাদের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। ছেলে-মেয়ের মধ্যে কোনো ধরনের বিভেদ না রেখে পরিবার থেকেই সমঅধিকারের চর্চা শুরু করতে হবে।

শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা, শিল্প ও সংস্কৃতিচর্চার গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশজুড়ে শুরু হওয়া নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসে প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার ছেলে-মেয়ে অংশ নিয়েছে। এর মধ্যে ৪৫ হাজারের বেশি মেয়ে। শুধু পড়াশোনায় নয়, শিশুদের শিল্প, সংগীত, নাটক ও খেলাধুলাতেও ভালো করতে হবে।

একটি দেশের প্রকৃত শক্তি তার সফট পাওয়ার। তাই শিশুদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে।

ক্রিয়েটিভ ইকোনমি প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে নতুন একটি দিগন্ত উন্মোচন করতে যাচ্ছে সরকার। এর আওতায় দেশের থিয়েটার, শিল্প ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি প্রান্তিক পর্যায়ের তাঁতি, কামার, কুমারসহ বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী কারিগরকে জাতীয় অর্থনীতির সঙ্গে যুক্ত করা হবে এবং তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক নানা প্রতিকূলতার কথা তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, সবার সম্মিলিত শক্তি ও ধৈর্যের মাধ্যমে একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে, যেখানে শিশুদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ নিরাপদ ও নিশ্চিত হবে।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক সচিব ড. রওশন আরা বেগম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এবং বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক মোছা. আরজু আরা বেগম। অনুষ্ঠান শেষে বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিশুদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অর্থমন্ত্রী।