সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,

ভিডিও ফাঁসের জেরে ইসলামী আন্দোলন নেতার সব পদ স্থগিত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ১২:৫৮ পিএম

ভিডিও ফাঁসের জেরে ইসলামী আন্দোলন নেতার সব পদ স্থগিত

ছবি: সংগৃহীত

আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সেক্রেটারি মাওলানা আব্বাস উদ্দিনের সব সাংগঠনিক পদ স্থগিত করা হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) রাতে ভোলা দক্ষিণ জেলা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে পুরো ঘটনাটির প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে পাঁচ সদস্যের একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা কমিটি।

স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তথ্যে দাবি করা হচ্ছে, ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া সংবেদনশীল ওই ভিডিওতে আব্বাস উদ্দিনকে এক নারীর সাথে ভিডিও কলে অশালীন অবস্থায় কথা বলতে দেখা গেছে।

ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই পুরো জেলাজুড়ে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে তিনি চরফ্যাশন এলাকায় একটি কওমি মহিলা মাদ্রাসা পরিচালনা করায় প্রতিষ্ঠানটির সার্বিক পরিবেশ ও সেখানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয়দের অনেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

ইসলামী যুব আন্দোলনের সাবেক এই সভাপতি পুরো ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন।

তবে নিজের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে আব্বাস উদ্দিন দাবি করেন, ভিডিওটি কয়েক মাস আগের এবং ভিডিও কলে থাকা অপর ব্যক্তি তার বৈধ স্ত্রী। তার ভাষ্যমতে, ক্লিপটি নিজের ব্যক্তিগত মুঠোফোনেই সংরক্ষিত ছিল। সম্প্রতি ফোনটি হারিয়ে যাওয়ার পর একটি অসৎ চক্র সেটি হাতিয়ে নেয় এবং রাজনৈতিকভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করতে পরিকল্পিতভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।

মুঠোফোনে এ ধরনের সংবেদনশীল উপাদান সংরক্ষণের ক্ষেত্রে নিজের অসতর্কতা ছিল বলে স্বীকার করেন তিনি। তবে তার এই বক্তব্যের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সংগঠনের আদর্শ ও শৃঙ্খলার বিষয়ে কোনো আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মাওলানা মুহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম।

তিনি উল্লেখ করেন, ভোলা দক্ষিণ জেলা শাখার সভাপতি প্রফেসর কামাল উদ্দিনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি দায়িত্ব পালন করছে। গঠিত কমিটির দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই আব্বাস উদ্দিনের ব্যাপারে স্থায়ী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। তদন্তে নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হলে তাকে আজীবনের জন্য বহিষ্কারসহ চূড়ান্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কার্যক্রম শেষ না হওয়া পর্যন্ত তার সকল দায়িত্ব ও পদ সম্পূর্ণ স্থগিত থাকবে।