অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০২:৫৩ পিএম
দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সামগ্রিক সংস্কার কর্মসূচি ও সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংক ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে সহযোগিতার আলোচনা ইতিবাচক ধারায় এগোচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বার্ষিক সভার ফাঁকে এক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সেখানে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সংকটময় অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং চলমান বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থার মধ্যেও বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক অগ্রগতি দেখিয়েছে, তাতে সন্তোষ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানান, গত কয়েক দিনে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের তথ্য আদান-প্রদানসহ বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় আজকের আনুষ্ঠানিক বৈঠকেও বিভিন্ন নীতিগত দিক পর্যালোচনা করা হয়। বহুপাক্ষিক এই দুই সংস্থার সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখে দীর্ঘমেয়াদি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে সব উদ্যোগ এগিয়ে নিতে চায় বাংলাদেশ।
ব্যাংকিং খাতের সংস্কার ও কর-মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) অনুপাত বৃদ্ধির মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে আন্তর্জাতিক সংস্থার কিছু পর্যবেক্ষণ থাকাকে স্বাভাবিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের পক্ষ থেকেও কিছু সুনির্দিষ্ট পর্যবেক্ষণ তুলে ধরা হয়েছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়েছে এবং অনেক জটিল বিষয়ের সমাধান এসেছে। অমীমাংসিত বিষয়গুলো নিয়ে আগামী কয়েক মাস ধরে ধারাবাহিক আলোচনা চলবে।
আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্গে নতুন ঋণ বা সহায়তা কর্মসূচি চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হচ্ছে বলে জানান তিনি। আশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হবে।
বৈঠকে ব্যাংকিং খাতের মূলধন সংকট কাটানো, কর আদায় বাড়ানো এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষার কৌশল নিয়ে যৌথ পর্যালোচনা হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে নেওয়া পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ ও পরিকল্পনা এগিয়ে নিতেই আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর সঙ্গে নিবিড় অংশীদারত্ব গড়ে তোলা হচ্ছে। কর্মসূচির শর্ত ও মতপার্থক্য প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক অংশীদারত্বে কিছু শর্ত থাকা স্বাভাবিক এবং মতপার্থক্য তৈরি হলে তা ধৈর্য সহকারে আলোচনার মাধ্যমেই নিরসন করতে হবে।
দেশের একটি নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য অর্থনৈতিক কৌশল রয়েছে বলেই আলোচনা এতটা ইতিবাচক পথে এগিয়েছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, থাইল্যান্ডের ব্যাংককে গত ১২ অক্টোবর শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সম্মেলন। আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলা এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থমন্ত্রী, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর, শীর্ষ নীতিপ্রণেতা ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন