অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সেবা চালুর অনুমোদন ঘিরে বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ও ভারত সরকারের মধ্যে বড় ধরনের মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। দ্রুত বাণিজ্যিক লাইসেন্স না পেয়ে মাস্ক দেশটির নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর বিরুদ্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করলেও নীতিগত অবস্থানে অনড় নয়াদিল্লি।
ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। কোনো বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তিগত প্রভাবের মুখে দেশের সার্বভৌমত্ব, আইন ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে নতি স্বীকার করবে না সরকার। ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্সের সহযোগী প্রতিষ্ঠান স্টারলিংক দেশটিতে দ্রুত সেবা শুরু করতে আগ্রহী হলেও প্রশাসনিক অনুমোদনে বিলম্বের কারণে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনমত তৈরির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে প্রযুক্তি ও জনকল্যাণের পথে অন্তরায় হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টাও চালাচ্ছেন তিনি।
তবে মাস্কের এমন অবস্থানে পিছু হটেনি ভারত সরকার।
ভারতের কেন্দ্রীয় যোগাযোগমন্ত্রী জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া জানিয়েছেন, ভারতীয় বাজারে কোনো একক বিদেশি প্রতিষ্ঠানের একচেটিয়া আধিপত্য বরদাশত করা হবে না। স্থানীয় প্রতিষ্ঠান রিলায়েন্স জিও বা অন্যান্য দেশীয় টেলিকম অপারেটরকে যেসব কঠোর নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা শর্ত মানতে হয়, স্টারলিংককেও ঠিক একই আইনি ও নীতিগত শর্ত পূরণ করতে হবে। কোনো বিশেষ সুবিধা বা ছাড় দেওয়া হবে না।
স্যাটেলাইট ইন্টারনেট নিছক কোনো সাধারণ বাণিজ্যিক সেবা নয়।
মহাকাশভিত্তিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ইন্টারনেট সরবরাহ করতে গেলে দেশের স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলের নিরাপত্তা, সাইবার নজরদারি, তথ্য পাচার ও প্রতিরক্ষা সুরক্ষার মতো বিষয়গুলো সরাসরি জড়িত থাকে। ভারতের সংবেদনশীল সামরিক এলাকা মণিপুর এবং আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে অতীতে অনুমোদনহীন ও অবৈধভাবে স্টারলিংক টার্মিনাল ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। এসব উদ্বেগজনক অতীত অভিজ্ঞতার কারণে আনুষ্ঠানিক বাণিজ্যিক লাইসেন্স দেওয়ার আগে সর্বোচ্চ স্তরের নিরাপত্তা পরীক্ষা ও যাচাই বাধ্যতামূলক করেছে ভারত সরকার।
বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ভারতের প্রত্যন্ত পাহাড়ি ও দুর্গম জনপদে ইন্টারনেট সেবা সম্প্রসারণে স্টারলিংকের স্যাটেলাইট প্রযুক্তির কার্যকারিতা অনস্বীকার্য। তবে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ কোনো বহুজাতিক কোম্পানিকে সংশ্লিষ্ট দেশের অভ্যন্তরীণ আইনি কাঠামোর বাইরে গিয়ে বাণিজ্যিক সুবিধা নেওয়ার অধিকার দেয় না।
ভারতে স্টারলিংকের ভবিষ্যৎ কার্যক্রম পরিচালনা শেষ পর্যন্ত নির্ভর করছে দেশটির কঠোর নিরাপত্তা মূল্যায়ন ও আইনগত সম্মতি প্রক্রিয়ার ওপর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণায় নয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন