বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,
দিল্লিতে পুলিশি বর্বরতা

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০১:১২ পিএম

দিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতন

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিতে চলমান আন্দোলনে আটক শিক্ষার্থীদের ওপর নির্মম নির্যাতন, মারধর ও অসদাচরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে।

আটক হওয়ার পর মুক্তি পাওয়া ছাত্রছাত্রী ও বিক্ষোভকারীরা নিজেদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখিয়ে এই অভিযোগ তুলেছেন। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, চরম নির্যাতন ও দমনপীড়নের মুখেও নির্বাচন কমিশন সংস্কার ও ভোটার তালিকা পুনর্বিবেচনার দাবিতে কর্মসূচি চলবে। বিবিসির প্রতিবেদনে উঠে আসা এসব মারাত্মক অভিযোগের বিষয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা এখন পর্যন্ত কোনো সাড়া দেয়নি।

আটককৃতদের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে এসেছে চরম নিগ্রহের বিবরণ।

আম্বেদকর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সদস্য শরণ্যা শর্মাকে গত ১১ অক্টোবর আটক করা হয়। তাঁর অভিযোগ, বাসে তোলার সময় নারী পুলিশ সদস্যরা তাঁর পোশাক টেনে মাথার ওপর তুলে দিয়ে অপমান করেন এবং পুরুষ কমান্ডোরা জোরপূর্বক ঠেলে বাসের ভেতরে ঢোকান। দরজায় তাঁর পা আটকে থাকা অবস্থাতেই জোর করে দরজা বন্ধ করার চেষ্টা চালায় পুলিশ। দীর্ঘ সময় বাসে আটকে রাখার পর নাঙ্গলোইয়ের একটি আটক কেন্দ্রে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে খাবার ও পানির চরম সংকট ছিল।

সংগঠনটির দিল্লি সভাপতি নাদিয়া অভিযোগ করেন, তাঁর মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে পুলিশ এবং বাধা দিলে তাঁকে টানা ১৫ মিনিট শারীরিক নির্যাতন করা হয়। তিনি জানান, বাসের ভেতরে চারজন পুলিশ সদস্য তাঁর ওপর চড়াও হয়ে মারধর করেন এবং আধমরা করে ছাড়ার হুমকি দেন। এছাড়া গবেষক নোভেলকে একটি সাধারণ বাসে তিন ঘণ্টা আটকে রেখে চড়-থাপ্পড় ও লাথি মারা হয়। বুট দিয়ে বুকে ও সংবেদনশীল অঙ্গে আঘাত করার কথা জানিয়েছেন সমাজকর্মী অর্জুন। তিনি উল্লেখ করেন, বাসে আটক থাকা কিছু অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীও আঘাতের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হয়েছে।

সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনেও বাধা দেওয়া হয়েছে ব্যাপকভাবে।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, দিল্লি, আহমেদাবাদ ও পুনে মিলিয়ে অন্তত ৩৭ জন সাংবাদিককে আটক করা হয়েছিল, যার মধ্যে শুধু দিল্লিতেই আটক হন ৩৫ জনের বেশি। আটক সাংবাদিকদের মধ্যে স্ক্রল ডট ইনের শোয়েব দানিয়াল ও আয়ুষ তিওয়ারি, বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনুষ্কা ভরদ্বাজ এবং নিউজলন্ড্রির অশ্বিনী কুমার সিং, আস্থা সব্যসাচী ও অনমোল প্রীতম ছিলেন। আটককৃতদের পরিবারের নাগালের বাইরে রাখতে বাওয়ানা, মুন্ডকা, বুরারি ও নারেলার মতো প্রত্যন্ত এলাকার কেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়।

গত ২ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভ ১০ অক্টোবর তীব্র আকার ধারণ করে। শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করলেও আন্দোলন থামেনি।

এদিকে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট এক পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র বিক্ষোভকারীদের বেআইনিভাবে আটক করা যায় না এবং কাউকে আটক করতে হলে আইনের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে চলা বাধ্যতামূলক।