অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১২:০১ পিএম
রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটন কেন্দ্র সাজেক সড়কে ফের শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোর ছয়টা থেকে দ্বিতীয় দফায় এই কর্মসূচি পালন করছে সাজেক গণ অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন। দুই সংগঠনের যৌথ বিবৃতির মাধ্যমে এই অবরোধের ডাক দেন গণ অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা এবং কার্বারী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা।
নতুন করে কর্মসূচি শুরুর পর থেকেই পর্যটন কেন্দ্র অভিমুখী প্রধান সড়কে সব ধরনের যান চলাচল পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। অবরোধের সরাসরি প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতি ও জনজীবনে। পর্যটন সংশ্লিষ্ট এলাকার রিসোর্ট, কটেজ ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের দৈনন্দিন সেবা বন্ধ রেখেছে। এতে সাজেকের লুসাই, ত্রিপুরা, চাকমা ও মারমা জাতিগোষ্ঠীর অন্তত ৩০ হাজার স্থায়ী বাসিন্দা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন।
সপ্তাহের নির্ধারিত হাটের দিনেও স্থানীয় বাজারগুলোতে দেখা গেছে অস্বাভাবিক নীরবতা। যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় পাহাড়ি জুমচাষীরা নিজেদের উৎপাদিত ফসল হাটে নিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। স্থানীয় অধিবাসীরা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে সাজেক উপত্যকার পাহাড়ি জনপদে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে। সকালের দিকে বিভিন্ন স্থানে সড়ক আটকে পিকেটিংয়ের খবর পাওয়া গেছে।
বাঘাইহাটের ১০ নম্বর এলাকা, গঙ্গারাম ব্রিজ এবং মাচালংয়ের ১৪ কিলোমিটার এলাকায় সড়কে টায়ার, বাঁশ ও গাছের গুঁড়িতে আগুন জ্বালিয়ে যান চলাচল আটকে দেওয়া হয়। এর ফলে সাধারণ মানুষের চলাচল এবং পণ্য পরিবহন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। পাহাড়ের দুই সশস্ত্র সংগঠনের দীর্ঘস্থায়ী দ্বন্দ্ব থেকেই বর্তমান অচলাবস্থার সূত্রপাত।
মূলত পার্বত্য চট্টগ্রামের দুই আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফ (মূল) ও জেএসএস (সন্তু লারমা)-র মধ্যে আধিপত্য বিস্তারের জেরে সাজেকের বিভিন্ন স্থানে দফায় দফায় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ওই সংঘাতের সময় এক ত্রিপুরা শিশু শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর থেকেই পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চরম অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়ে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর সশস্ত্র সদস্যদের আনাগোনা বন্ধ ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার দাবিতে প্রথম দফায় অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ শুরু করেছিল সংগঠন দুটি। সে সময় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৪৮ ঘণ্টার ভেতরে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দেওয়া হলে কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছিল।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি পূরণের নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় পাহাড়ি প্রতিনিধিরা। তাদের দাবি, পাহাড়ে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরবে না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন