বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের তীব্রতা

সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দিল হুতিরা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ০৯:৫৮ এএম

সৌদির বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলার হুঁশিয়ারি দিল হুতিরা

ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবের বিভিন্ন বিমানবন্দর ও কৌশলগত তেল স্থাপনাকে নিজেদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু ঘোষণা করে আরও হামলার প্রকাশ্য হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতি। বুধবার এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, সৌদি আরবের ভেতরে তাদের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন সংস্থা, সাধারণ নাগরিক এবং তেল স্থাপনার কর্মীদের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোগুলো থেকে দ্রুত সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তারা। এর আগে পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরবের রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর সদর দপ্তর কমপ্লেক্সে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়।

সংশ্লিষ্ট ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী তিন ব্যক্তির বরাত দিয়ে জানা গেছে, হামলায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান কার্যালয় ভবনের কয়েকটি তলায় আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দাবি, হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ছিল খুবই সীমিত এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সচল রাখা হলেও কর্মীদের বাসায় থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ধাহরানের এই কেন্দ্র থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম তেলক্ষেত্র, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক ও তেল রপ্তানি টার্মিনালগুলো পরিচালনা করা হয়।

হুতিদের দাবি, ধাহরানে আরামকোর স্থাপনা ছাড়াও তারা রিয়াদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও রাজধানীর একটি তেল শোধনাগারে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের সাহায্যে যৌথ আঘাত হেনেছে। ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীকে সৌদির সামরিক সহায়তার জবাবেই এই আক্রমণ বলে জানিয়েছে গোষ্ঠীটি। এর আগে গত এক সপ্তাহে রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে চার দফা আক্রমণ চালানো হয়। শনিবারের হামলায় অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটে, যা গত এক দশকে দেশটির মাটিতে সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার একটি। এ পরিস্থিতিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বিমানবন্দরটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেছে এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিমান সংস্থা তাদের ফ্লাইট বাতিল করেছে।

বুধবার সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদের আকাশসীমায় হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করা হয়েছে। ওই দিন রাজধানীতে একাধিক জোরালো বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলেও সৌদি গণমাধ্যম দপ্তর এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।

সংঘাতের এই বিস্তার সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও তেলনির্ভরতা কমানোর উদ্যোগের ওপর বড় ধাক্কা তৈরি করেছে।

২০১৫ সালে হুতিরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা দখল করলে সৌদি আরব সেখানে সামরিক অভিযান শুরু করে। ২০২২ সালে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চলতি বছর পর্যন্ত ভঙ্গুরভাবে টিকে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি হুতিরা লোহিত সাগরের বাব আল-মানদেব প্রণালির দিকে অগ্রসর হলে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী আবারও সংঘাতে জড়ায়।

আন্তর্জাতিক রেডক্রস জানিয়েছে, ইয়েমেনের যুদ্ধক্ষেত্রগুলোতে আহত মানুষের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ায় স্থানীয় হাসপাতালগুলো চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে। অন্যদিকে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি সতর্ক করেছে, হুতিদের অবরোধের কারণে অবরুদ্ধ তাইজ শহরে খাদ্য ও জরুরি সহায়তা পৌঁছানো বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে শহরটিতে খাদ্যসংকটে থাকা দুই লাখ নারী ও শিশুসহ অন্তত ছয় লাখ মানুষ চরম মানবিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন।

তথ্যসূত্র: রয়টার্স