বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬,

ছড়িয়ে পড়া এআই ভিডিও নিয়ে মেহজাবীন: বানোয়াট কনটেন্ট ছড়ানো অপরাধ

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১০:৩৮ এএম

ছড়িয়ে পড়া এআই ভিডিও নিয়ে মেহজাবীন: বানোয়াট কনটেন্ট ছড়ানো অপরাধ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা কনটেন্ট তৈরি এবং তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাকে সোজাসুজি অপরাধ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী।

বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক দীর্ঘ বার্তায় তিনি সাম্প্রতিক এই অসুস্থ প্রবণতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একই সাথে যারা কোনো সত্যতা যাচাই না করে এসব কনটেন্ট অন্যদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছেন, তাদের দায়িত্বহীন ভূমিকা নিয়েও জোরালো প্রশ্ন তোলেন তিনি। মেহজাবীন স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, প্রযুক্তি ব্যবহার করে কাউকে হেয় করার অপচেষ্টা কোনোভাবেই বিনোদন হতে পারে না; এটি পরিষ্কার একটি অপরাধ।

তবে এ ধরনের বানোয়াট উপাদান যখন শত শত কিংবা হাজার হাজার সাধারণ ব্যবহারকারী নির্বিচারে শেয়ার করতে থাকেন, তখন সেটি আর নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির একক অন্যায়ের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং তা পুরো সমাজের সম্মিলিত মানসিক অবক্ষয় ও গভীর সংকটের চিত্রটি উন্মোচন করে। মেহজাবীন প্রশ্ন রেখে বলেন, একজন সচেতন সমাজ হিসেবে আমরা আসলে কোন নৈতিক অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছি।

কাউকে একজন মানুষ হিসেবে ন্যূনতম সম্মান জানানোর জন্য তাকে নিজের পরিবারের সদস্য ভাবার আবশ্যকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন এই অভিনেত্রী। তিনি মনে করেন, অন্যায় ঘটনার ক্ষেত্রে নিজের মা কিংবা বোনের উদাহরণ টেনে সহানুভূতি জাগানোর আহ্বান জানানোর প্রয়োজন থাকাটাই এক ধরনের ব্যর্থতা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেবল ভিউ, লাইক, শেয়ার বাড়ানো কিংবা সেখান থেকে অর্থ উপার্জনের লোভে অন্যের ব্যক্তিগত সম্মানহানিকে পুঁজি করার মানসিকতাকে ধিক্কার জানান তিনি।

অনেকের কাছে কনটেন্ট তৈরি জীবিকা অর্জনের একটি বৈধ মাধ্যম হতে পারে এবং সেই বাস্তব জীবনসংগ্রামকে তিনি সম্মান জানান। কিন্তু অন্যের অসম্মান ও অপমানকে উপার্জনের হাতিয়ার বানানোর সংস্কৃতি কবে থেকে গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠল, তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন মেহজাবীন।

তিনি আরও বলেন, এই নোংরা অসুস্থ প্রতিযোগিতা এখন আর শুধু নারী কিংবা পুরুষের সীমারেখায় আটকে নেই। লাইক ও এনগেজমেন্টের অসুস্থ উন্মাদনা সব ধরনের লিঙ্গভেদ ছাড়িয়ে গেছে। অসচেতনভাবে বা লোভে পড়ে ক্ষতিকর কনটেন্ট ছড়ানোর সাথে যেকোনো মানুষ যুক্ত হয়ে যেতে পারে, আবার এর অনাকাঙ্ক্ষিত শিকারে পরিণত হতে পারেন যে কেউ।

যারা সরাসরি প্রযুক্তির অপব্যবহার করে মিথ্যা তথ্য তৈরি করছেন, কেবল তাদের আচরণেই চিন্তিত নন মেহজাবীন। বরং যারা জেনেবুঝে স্বেচ্ছায় সেই অপপ্রচার শেয়ার করছেন, আলোচনা উসকে দিচ্ছেন এবং লক্ষাধিক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভূমিকা রাখছেন, তাদের দায়বদ্ধতাও সমান।

সবশেষে তিনি সবাইকে নিজ নিজ অন্তরের বিবেক ও নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার তাগিদ দেন। কোনো অপরাধীর অসৎ কাজের সহযোগী হয়ে নিজের বিবেকহীনতার প্রমাণ দেবেন কি না, তা গভীরভাবে ভেবে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন এই তারকা।