মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া

শবনম ফারিয়া বললেন আল্লাহ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন

বিনোদন ডেস্ক

অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম

শবনম ফারিয়া বললেন আল্লাহ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন

অভিনয়শিল্পীদের হজ ও ওমরাহ পালন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিরূপ মন্তব্যকারীদের তীব্র সমালোচনা করেছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী শবনম ফারিয়া।

অন্যের ধর্মীয় আমল ও প্রার্থনা স্রষ্টার কাছে কবুল হবে কি না—তা নিয়ে রায় দেওয়ার অধিকার কারও নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ কিংবা ঈর্ষা মেটাতে ধর্মকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করে সবাইকে নিজ নিজ চরিত্র ও আচরণের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে শবনম ফারিয়া তাঁর এই স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন।

তিনি উল্লেখ করেন, কারও হজ বা ওমরাহর ছবি দেখে যদি প্রথমেই মনে নেতিবাচক মন্তব্য করার তাগিদ তৈরি হয়, তবে সেই ব্যক্তির উচিত আগে নিজের মানসিকতার দিকে তাকানো। কার ইবাদত স্রষ্টার দরবারে মঞ্জুর হবে, কার নিয়ত কতটা নিখাঁদ কিংবা কে কখন হেদায়েত লাভ করবেন—এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেওয়ার কোনো অধিকার কোনো মানুষের নেই।

হজ বা ওমরাহ পালনের বিষয়টি কেবল ব্যক্তির অর্থনৈতিক প্রাচুর্যের ওপর নির্ভর করে না বলে মনে করেন ফারিয়া।

তিনি লেখেন, এর সঙ্গে খাঁটি নিয়ত, সঠিক তাওফিক এবং মহান আল্লাহর ইচ্ছার বিষয় সরাসরি জড়িত। কারও ইবাদত কবুল হবে কি না—এমন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেওয়ার মতো জায়গায় কোনো সাধারণ মানুষ অবস্থান করে না।

অভিনয়শিল্পীদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, অভিনয় একটি পেশা মাত্র। বিশ্বজুড়ে অজস্র মুসলিম অভিনেতা-অভিনেত্রী তাঁদের জীবনের কোনো না কোনো পর্যায়ে পবিত্র হজ বা ওমরাহ পালন করেছেন। তাঁদের ধর্মচর্চা গ্রহণযোগ্য কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার অন্য কারও নেই। আল্লাহ কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিজেকে অতিমাত্রায় ধর্মপরায়ণ হিসেবে দাবি না করলেও অন্যকে বিচার করার প্রবণতা থেকে দূরে থাকার গুরুত্ব মনে করিয়ে দেন এই অভিনেত্রী। কার কোন ছোট আমল, আন্তরিক চেষ্টা কিংবা আত্মিক নিয়ত স্রষ্টা কবুল করে নেবেন, তা মানুষের পক্ষে জানা অসম্ভব। ফলে অন্যের ইবাদত নিয়ে ব্যস্ত হওয়ার আগে প্রত্যেকের উচিত নিজের আমলনামা পর্যালোচনা করা।

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সমাজে যাদের বিরুদ্ধে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যেসব রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সাধারণ মানুষকে মিথ্যা আশ্বাস দেন কিংবা যারা সুদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে আলোচনা থাকে—তাদের হজ ও ওমরাহর ছবি দেখে কি সমাজ একইভাবে আক্রমণ করে? নাকি ব্যক্তিগত অপছন্দ ও ঈর্ষার কারণেই কিছু মানুষের বিরুদ্ধে দ্বিমুখী মনোভাব দেখানো হয়?

ফারিয়া পরামর্শ দেন, কেউ যখন নিজের জীবনের আনন্দ, গভীর বিশ্বাস কিংবা বিশেষ মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেন, তাতে সহমর্মী হতে না পারলে নীরব থাকাই শ্রেয়। প্রয়োজনে সেই ব্যক্তিকে এড়িয়ে চলা বা সামাজিক প্ল্যাটফর্মে আনফলো করে রাখা যায়। কিন্তু কারও ইবাদতের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিচারকের ভূমিকায় বসার অধিকার কারও নেই।

ধর্ম পালন কাউকে অন্যের নিয়ত বা বিশ্বাসের আদালত বানিয়ে দেয় না বলে উল্লেখ করেন ফারিয়া। তিনি মনে করিয়ে দেন, অন্যের আমল কবুল হয়েছে কি না তা সম্পূর্ণ আল্লাহর এখতিয়ার; কিন্তু সেই ইবাদতকে কেন্দ্র করে কে কী ধরনের কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য ছুড়ে দিচ্ছেন, তা কেবল মন্তব্যকারীর নিজের আমলনামাতেই যুক্ত হচ্ছে।