মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,

জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে ফেরত দিল পুলিশ

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৬:২৭ পিএম

জার্মান পর্যটকের চুরি হওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে ফেরত দিল পুলিশ

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে ভ্রমণে এসে নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে চুরি হওয়া জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবারের MacBook ল্যাপটপটি উদ্ধার করে তার হাতে ফেরত দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে ওই পর্যটকের হাতে উদ্ধার করা ল্যাপটপটি তুলে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির। এ সময় পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শকসহ পুলিশের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের অংশ হিসেবে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। এরপর গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় স্টেশনের বিশ্রামাগারে অবস্থান করছিলেন তিনি। এ সময় নিজের ল্যাপটপ ও ক্যামেরা বিশ্রামাগারে রেখে পার্শ্ববর্তী একটি অটোমেটেড টেলার মেশিন বা এটিএম বুথে নগদ টাকা তুলতে যান তিনি।

টাকা তুলে ফিরে এসে তিনি নিজের গুরুত্বপূর্ণ মালামাল দেখতে না পেয়ে নাটোর সদর থানায় গিয়ে সরাসরি সহায়তা চান। ক্রিল জানান, ওই কম্পিউটারে তার বিগত ছয় মাসের আন্তর্জাতিক ভ্রমণ নথিপত্র ও ব্যক্তিগত স্মৃতি সংরক্ষিত ছিল।

বিদেশি পর্যটকের লিখিত অভিযোগের পরপরই নাটোর সদর থানা, জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের একাধিক দল সমন্বিত উদ্ধার অভিযান শুরু করে। টানা অনুসন্ধানের পর গত ১১ অক্টোবর রাত সাড়ে নয়টার দিকে নাটোর শহরের কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে খোয়া যাওয়া ল্যাপটপটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় যৌথ দল।

চুরি হওয়া ল্যাপটপটি অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে বাংলাদেশ পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার। একই সাথে বাংলাদেশ ভ্রমণের ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা জানান তিনি।

বিদেশি পর্যটকের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি ও মালামাল উদ্ধার করে প্রাতিষ্ঠানিক ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করায় নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনসুর রহমান এবং উপপরিদর্শক মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কারে ভূষিত করেন পুলিশ মহাপরিদর্শক।

পুলিশপ্রধান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দায়িত্ববোধের প্রশংসা করে জানান, দেশি ও বিদেশি সব নাগরিকের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা রক্ষা, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা এবং দ্রুততম নাগরিক সেবা নিশ্চিত করার মাধ্যমেই জনমুখী পুলিশিং জোরদার করতে হবে।