অক্টোবর ১৫, ২০২৬, ১০:২১ এএম
ব্যবহারকারীদের বিপজ্জনক আচরণে প্ররোচিত করা এবং শিশু-কিশোরদের মারাত্মক ক্ষতির মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি নির্মাতা ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে পৃথক মামলা দায়ের করেছে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্য।
আইওয়া, কানসাস, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, আইডাহো, মন্টানা, নেব্রাস্কা ও ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেলরা নিজ নিজ রাজ্যের আদালতে এই মামলাগুলো পরিচালনা করছেন। তাদের প্রাথমিক অভিযোগ, নিজেদের বা অন্যের ক্ষতি করতে পারে এমন বিষয়ে ব্যবহারকারীদের অনাকাঙ্ক্ষিত পরামর্শ দিচ্ছে চ্যাটবট চ্যাটজিপিটি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিতে পড়ছে অপ্রাপ্তবয়স্ক এবং তরুণ প্রজন্ম।
মামলার নথিতে দাবি করা হয়েছে, ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন ও তাদের অ্যাপে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে রাখার লক্ষ্যেই প্ল্যাটফর্মটিকে একটি নির্দিষ্ট মানসিক কাঠামোর ওপর তৈরি করা হয়েছে। ফলে এটি সবসময় ব্যবহারকারীর ভুল কথায় সায় দেয় এবং তাদের বিপজ্জনক অনুভূতিকে অন্ধ সমর্থন জোগায়। এর মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস আরও জোরদার হয়, ঝুঁকিপূর্ণ পদক্ষেপে আগ্রহ তৈরি হয় এবং এমনকি নির্বিচার গুলিবর্ষণের মতো ধ্বংসাত্মক সহিংসতার পরিকল্পনা সাজাতেও চ্যাটবটটি সহায়তা জুগিয়েছে বলে অভিযোগ তোলা হয়।
কোনো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মার্কিন অঙ্গরাজ্যগুলোর সমন্বিত আইনি লড়াইয়ের ইতিহাসে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। এর আগে গত জুন মাসে একই ধরনের অভিযোগে প্রথম মামলা দায়ের করেছিলেন ফ্লোরিডার অ্যাটর্নি জেনারেল।
মামলাকারী রাজ্যগুলোর অভিযোগ, চ্যাটজিপিটির সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে অসত্য তথ্য দিয়ে গ্রাহক সুরক্ষা আইন সরাসরি লঙ্ঘন করেছে ওপেনএআই। সাধারণ মানুষের মানসিক ও শারীরিক নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে একটি জনস্বার্থবিরোধী পরিস্থিতি তৈরি করা হয়েছে। আদালত যেন অবিলম্বে চ্যাটজিপিটির পরিচালন পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে প্রতিষ্ঠানটিকে বাধ্য করে, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। মানুষের সুস্থ মূল্যবোধের সঙ্গে সংগতি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী প্রজন্মের উন্নত মডেল তৈরি স্থগিত রাখার আর্জিও জানানো হয়।
আইন লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত ওপেনএআইয়ের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা ও উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দাবি করেছে আটটি রাজ্যই।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা হলেও প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। এদিকে গুলিবর্ষণসহ বিভিন্ন সহিংসতার পরিকল্পনায় চ্যাটবটটি উৎসাহ জুগিয়েছে এমন অভিযোগ এনে ব্যক্তিগত পর্যায় থেকেও ভুক্তভোগীরা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে কয়েক ডজন মামলা দায়ের করেছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন