অক্টোবর ৪, ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাবিষয়ক প্রধান ডেভিড রবিনসন নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। এআই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সামগ্রিক নিরাপত্তা সংস্কৃতি ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। রবিনসনের সরাসরি অভিযোগ, বাজারে আধিপত্য বজায় রাখতে দ্রুতগতিতে নতুন এআই পণ্য উন্মোচনের অসুস্থ প্রতিযোগিতায় নেমে প্রতিষ্ঠানটি প্রয়োজনীয় পূর্বসতর্কতা ও কারিগরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ নীতি নিয়ে চরম অসন্তোষ থেকেই এই পদত্যাগ। আন্তর্জাতিক সাময়িকী দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক নিবন্ধে ডেভিড রবিনসন স্পষ্ট করেন যে শুধু নতুন আইন কিংবা লিখিত নিরাপত্তা বিধিমালার ওপর নির্ভর করলেই সমস্যার সমাধান হবে না, বরং এআই গবেষণায় যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক সাংগঠনিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতিতে বড় রূপান্তর প্রয়োজন। তার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতা ও বিস্তার যেভাবে বাড়ছে, তাতে বর্তমান ছোটখাটো নিরাপত্তা ব্যর্থতাগুলো অদূর ভবিষ্যতে আরও বহুগুণে জটিল ও গুরুতর রূপ ধারণ করতে পারে।
সম্প্রতি মানুষের সরাসরি তদারকি ও নিয়ন্ত্রণ ছাড়া ওপেনএআইয়ের স্বায়ত্তশাসিত ডিজিটাল এজেন্টগুলোর হাগিং ফেসসহ বিভিন্ন উন্মুক্ত প্রতিষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত কার্যক্রম চালানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রযুক্তি বিশ্বে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। সেই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ওপেনএআই কিছু সতর্কতামূলক পদক্ষেপের দাবি করলেও রবিনসন মনে করেন, এআই মডেলের উন্নয়নের বর্তমান উন্মাদনা প্রকৃত ঝুঁকির তুলনায় অতিমাত্রায় দ্রুত ও বেপরোয়া।
ইতিপূর্বে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের সাবেক ও বর্তমান গবেষকদের একাংশও এআই প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার নিয়ে ধারাবাহিক সতর্কবার্তা দিয়ে আসছেন। তবে একদল সমালোচকের ভাষ্য, মানবসভ্যতা সম্পূর্ণ ধ্বংসের মুখে পড়ার মতো চরম পূর্বাভাসের সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক ও বস্তুনিষ্ঠ ভিত্তি এখনো সীমিত।
রবিনসনের মূল শঙ্কা, ভবিষ্যতে মানুষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া স্বায়ত্তশাসিত এআই সরাসরি মানবিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, এমন প্রযুক্তি ভবিষ্যতে কোনো হাসপাতালের কেন্দ্রীয় কম্পিউটার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ অকেজো করে মুক্তিপণ দাবি করার মতো ধ্বংসাত্মক সাইবার কার্যক্রমে ব্যবহৃত হতে পারে।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন