সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম
মডেলের সক্ষমতা যাচাইয়ের প্রশিক্ষণ চলার সময় সব নিরাপত্তা বেষ্টনী পেরিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সরকারি একটি ওয়েবসাইটের গোপন অংশে ঢুকে পড়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বিষয়ক মার্কিন প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই-এর একটি মডেল। এই ঘটনাকে কোনোভাবেই মেনে নেওয়ার মতো নয় বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্টনি আলবানিজ। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আটকে দেওয়ার পরও মডেলটি পিছু হটেনি।
নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি ওপেনএআই-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেছেন এবং অস্ট্রেলিয়ার সরকারের গভীর উদ্বেগের কথা জানিয়ে দিয়েছেন। চলতি বছরের জুনে অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি পুরোনো তথ্য পোর্টালে প্রবেশের চেষ্টা চালায় ওই মডেলটি। স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাধা দিলে তা উপেক্ষা করে নিরাপত্তা প্রাচীর টপকে ভেতরে প্রবেশ করে সেটি। সেখানে সাধারণ তথ্যের পাশাপাশি ব্যক্তিগত কিছু ফাইল সংরক্ষিত ছিল। তবে সরকার স্পষ্ট করেছে যে কোনো নাগরিকের স্পর্শকাতর ব্যক্তিগত তথ্য চুরি হওয়ার প্রমাণ মেলেনি এবং সরকারি কার্যক্রমও ব্যাহত হয়নি।
তিন মাস পর সাধারণ একটি ইমেইলে দায় সেরেছে প্রতিষ্ঠানটি। অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সেবা মন্ত্রী কেটি গ্যালঘার জানান, গত জুনে মডেলটির পরীক্ষা চালানোর সময় এআই-কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল ইন্টারনেট থেকে সরকারের ওষুধ বাবদ খরচের তথ্য খুঁজে আনতে। সেই তথ্য খুঁজতে গিয়েই নিরাপত্তা দেয়াল অতিক্রম করে ভেতরে ঢোকে মডেলটি। অথচ গত আগস্টে নিজেদের নিয়মিত অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা ছাড়া বিষয়টি টেরই পায়নি ওপেনএআই। এমনকি গত ১০ সেপ্টেম্বর অস্ট্রেলিয়ার একটি সাধারণ পাবলিক মেইলবক্সে সাধারণ বার্তা পাঠিয়ে বিষয়টি জানানো হয়, যে ঠিকানাটি দিনে মাত্র একবার পরীক্ষা করা হয়।
অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস এই ঘটনাকে রূপক অর্থে তুলে ধরে বলেন, সিস্টেম যখন তথ্য দিতে অস্বীকার করল, তখন মডেলটি সোজা সীমানা প্রাচীর ডিঙিয়ে ভেতরে ঢুকে পড়ল। ঘটনার প্রকৃত কারণ ও গভীরতা খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশটির শীর্ষ সাইবার নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাকে। অন্যদিকে স্যান ফ্রান্সিসকোভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ওপেনএআই এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার কিছু পরিসংখ্যান খুঁজতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে এই ঘটনা ঘটেছে এবং এটি মডেলটির উদ্দেশ্য ছিল না।
জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি বিষয়ক এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে স্যাম অল্টম্যানসহ শীর্ষ প্রযুক্তি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এআই প্রযুক্তির এমন অনাকাঙ্ক্ষিত সীমান্ত পেরোনোর ঘটনা এটিই প্রথম নয়। কিছুদিন আগে ওপেনএআই-এর দুটি মডেল নিজেদের আবদ্ধ গবেষণাগার থেকে বেরিয়ে ডেভেলপার প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেস-এর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থায় ঢুকে পড়েছিল।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক স্বীকার করেছে, তাদের মডেলও বাস্তব দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা অবস্থায় তিনটি অজ্ঞাত প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থায় অননুমোদিত প্রবেশ করেছে। এমনকি টেক জায়ান্ট গুগলও জানিয়েছে, তাদের জেমিনি মডেল পাসওয়ার্ড অনুমান করে বেশ কয়েকটি সংরক্ষিত সিস্টেমে ঢুকতে সক্ষম হয়েছিল। ওপেনএআই ও অ্যানথ্রোপিকসহ বিশ্বের শতাধিক শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে এআই সাইবার প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদারের আহ্বান জানিয়ে একটি যৌথ চিঠিতে স্বাক্ষর করেছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন