অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০৮:৪৭ পিএম
সৌদি আরব ও ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের পাল্টাপাল্টি হামলার হুমকিতে দুই দেশের কৌশলগত স্থাপনাগুলোর আশপাশ থেকে সাধারণ নাগরিকদের দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের রাজধানী সানার একটি প্রধান তেল স্থাপনা খালি করার নির্দেশ জারি করেছে। অপরদিকে হুতি বিদ্রোহীরাও পাল্টা জবাবে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ তিনটি স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার আশপাশ থেকে বেসামরিক নাগরিকদের অবিলম্বে সরে যেতে বলেছে।
হুতিদের পক্ষ থেকে খালি করার সতর্কবার্তা দেওয়া তিনটি স্থাপনার তালিকায় রয়েছে দাম্মামে অবস্থিত সৌদি আরামকোর প্রধান কার্যালয়, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এবং সৌদি আরামকোর রিয়াদ তেল শোধনাগার।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের পক্ষ থেকে সানার ইয়েমেন পেট্রোলিয়াম কোম্পানির সাবাহা কেন্দ্রীয় জ্বালানি ডিপো থেকে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে। জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল মালিকি জানান, ওই তেল স্থাপনায় বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনার পূর্বে বেসামরিক লোকজনের ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে তাদের সতর্ক করা হচ্ছে।
এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিদের সামরিক মুখপাত্র সৌদি আরামকো তেল স্থাপনা ও প্রধান বিমানবন্দরের আশপাশে অবস্থানরত সব ধরনের কর্মী ও সাধারণ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার কড়া নির্দেশ দিয়েছেন। হুতিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের অভ্যন্তরীণ কৌশলগত লক্ষ্যবস্তুতে আরও তীব্র ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে সৌদি আরবের সামরিক জোট জানিয়েছে, তারা রিয়াদের উত্তরাঞ্চলীয় আকাশসীমা থেকে তিনটি ড্রোন সফলভাবে ভূপাতিত করেছে। সৌদি আরবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা এসব সশস্ত্র ড্রোন পাঠিয়েছে।
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ একাধিক সরকারি ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। এসব ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১৪ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সতর্কতার অংশ হিসেবে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান চলাচল ও কার্যক্রম বন্ধ রাখার মেয়াদ আগামী ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট চলাচল ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং একাধিক বিমান সংস্থা সৌদি আরবগামী তাদের নির্ধারিত ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করেছে।
সৌদি আরব এই হামলার কঠোর সামরিক জবাব দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে এবং ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রেখেছে। এই পাল্টাপাল্টি সামরিক অবস্থানে পুরো মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে রক্তক্ষয়ী সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন