সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,
জ্বালানি বাজার

জ্বালানি তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম

জ্বালানি তেলের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি এবং সৌদি আরবে হুথিদের ধারাবাহিক হামলার তীব্র প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। একই সঙ্গে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাংকারে হামলার ঘটনার কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার গভীর আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়ে প্রায় দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

বাজারের লেনদেন সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, সোমবার গ্রিনিচ মান সময় বেলা ১১টা ২৪ মিনিটে আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ২৪ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৬ দশমিক ১৯ ডলারে দাঁড়ায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বরের পর এটিই আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের সর্বোচ্চ মূল্য।

একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ বাজারে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১ দশমিক ১১ ডলার বা ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়ায় ৯২ দশমিক ৯৬ ডলারে। এর আগে লেনদেনে সাময়িক দরপতন দেখা গেলেও মধ্যপ্রাচ্যের নতুন সংঘাতের খবরে দ্রুত ঘুরে দাঁড়ায় অপরিশোধিত তেলের বিশ্ববাজার।

সৌদি আরবের ভেতরে একের পর এক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের আতঙ্ক তৈরি করেছে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, গত শনিবার সৌদি রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ১৩ জন নিহত এবং তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এই রক্তক্ষয়ী ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই রোববার একই বিমানবন্দরে পুনরায় হামলা চালানো হয়। দ্বিতীয় হামলায় একজন নিহত এবং আরও ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো ও আঞ্চলিক সরবরাহ পথের নিরাপত্তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

চলতি অক্টোবরে হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী তেলের ট্যাংকারেও হামলার ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহন পথ দিয়ে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল আন্তর্জাতিক বাজারে যায়। ফলে এই জলসীমায় জাহাজ চলাচল সামান্য ব্যাহত হলেও বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলে তা বড় ধরনের অভিঘাত সৃষ্টি করে।

গত সেপ্টেম্বর মাসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানি যে ইতিবাচক ধারায় ফিরতে শুরু করেছিল, নতুন করে ট্যাংকারে হামলার ঘটনায় সেই পুনরুদ্ধার কার্যক্রম চরম বাধার মুখে পড়েছে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার নতুন করে ডিজেল রপ্তানি এবং মস্কো-কিয়েভের মধ্যে জ্বালানি খাতে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে বাজারে অতিরিক্ত রুশ জ্বালানি সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হলেও মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা সংকটই তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে প্রধান ভূমিকা রাখছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে সশস্ত্র সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে তেলবাহী জাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হবে। এর ফলে আগামী দিনগুলোতেও জ্বালানি তেলের দামে তীব্র ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।