সোমবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৬,
আবুধাবি টেস্ট

আবুধাবি টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৯:১০ পিএম

আবুধাবি টেস্টে জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ

ছবি: সংগৃহীত

আবুধাবি টেস্টের চতুর্থ দিন শেষে আফগানিস্তানের বিপক্ষে দারুণ জয়ের সুবাস পাচ্ছে বাংলাদেশ। টেস্টের শেষ দিনে ম্যাচ জিততে টাইগারদের প্রয়োজন আর মাত্র ৭টি উইকেট, অন্যদিকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছাতে আফগানিস্তানকে করতে হবে আরও ৩৪৭ রান।

কাগজে-কলমে শেষ দিনে দুই দলের সামনেই ম্যাচ জয়ের সুযোগ উন্মুক্ত রয়েছে। তবে পঞ্চম দিনের উইকেটে আফগান ব্যাটারদের সামনে ৩৪৭ রান তোলা প্রায় পাহাড় টপকানোর সমতুল্য চ্যালেঞ্জ, যেখানে বাংলাদেশি বোলারদের সামনে ৭ উইকেট তুলে নিয়ে জয় নিশ্চিত করা অনেকটাই সহজ সমীকরণ।

মঙ্গলবার শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আগের দিনের ৬ উইকেটে ২২৩ রান নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ।

দিনের খেলা শুরুর পর মাত্র এক উইকেট হারিয়ে আরও ১৪৯ রান যোগ করে ইনিংস ঘোষণা করে টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত ৭ উইকেটে ৩৭২ রানের বিশাল সংগ্রহ নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দল। এর ফলে প্রথম ইনিংসের লিড মিলিয়ে জয়ের জন্য আফগানিস্তানের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪৭৯ রান।

জবাব দিতে নেমে দিনের খেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ৩ উইকেটে ১৩২ রান সংগ্রহ করেছে আফগানরা। ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল ৩৫ রান এবং অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শাহিদি ১৯ রানে অপরাজিত আছেন।

এর আগে তৃতীয় দিন বিকেলে মাত্র ১১ রানের ব্যবধানে দ্রুত তিন উইকেট হারিয়ে চাপে পড়েছিল দল। তবে চতুর্থ দিনের সকালটা পুরোপুরি বাংলাদেশের পক্ষেই যায়। দিনের তৃতীয় ওভারেই প্রথম ব্যক্তিগত জীবন পান লিটন দাস। কায়েস আহমেদের বলে স্লিপে ক্যাচ উঠলেও তা তালুবন্দী করতে পারেননি আফগান ফিল্ডার। ব্যক্তিগত ২৬ রানে দ্বিতীয়বার কায়েসের নিজের বলেই বেঁচে যান তিনি। এরপর ব্যক্তিগত ৬৭ রানে আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের সুবিধা পান লিটন। ব্যাটের কানা ছুঁয়ে বল গেলেও কটবিহাইন্ড দেননি আম্পায়ার এবং আফগানদের হাতে কোনো রিভিউ অবশিষ্ট না থাকায় বেঁচে যান তিনি।

টানা তিনবার সুযোগ পেয়ে ১১৫ বলে দুর্দান্ত সেঞ্চুরি স্পর্শ করেন লিটন দাস। টেস্ট ক্যারিয়ারে এটি তাঁর সপ্তম শতক।

এই শতক হাঁকানোর পথেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৯ হাজার রানের অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেন লিটন। শেষ পর্যন্ত তিনি ১০২ রান করে সাজঘরে ফেরেন। অপর প্রান্তে ফিফটি তুলে নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। তিনি অপরাজিত থাকেন ৯৭ বলে ৫২ রান করে। লিটন আউট হওয়ার পরপরই ডিক্লেয়ার দেয় বাংলাদেশ।

জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় আফগানিস্তান। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে পেসার এবাদত হোসেনের বলে কটবিহাইন্ড হন ওপেনার আব্দুল মালিক (২)। মালিককে ফিরিয়ে নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ৫০তম উইকেট পূর্ণ করেন এবাদত। এরপর আরেক টপ অর্ডার ব্যাটার শহীদুল্লাহকে মাত্র ১৪ রানে ফিরিয়ে দেন তরুণ পেসার হাসান মাহমুদ।

দ্রুত দুই উইকেট হারানোর পর তৃতীয় উইকেটে প্রতিরোধ গড়েন ওপেনার সেদিকুল্লাহ অটল ও অভিজ্ঞ রহমত শাহ। বেশ দেখেশুনে খেলে এই জুটি আফগানদের ম্যাচে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করে। তবে দিনের শেষভাগে আবারও আঘাত হানেন এবাদত হোসেন। ১২৪ বলে ৫১ রান করে এবাদতের বলে কটবিহাইন্ড হন রহমত।

রহমতের এই ক্যাচটি লুফে নেওয়ার মধ্য দিয়েই দেশের ক্রিকেট ইতিহাসে নতুন এক মাইলফলক গড়েন উইকেটকিপার লিটন দাস।

প্রথম ইনিংসে চারটি ক্যাচ ও একটি স্টাম্পিংয়ের পর দ্বিতীয় ইনিংসে তিনটি ক্যাচ নেন তিনি। এক টেস্ট ম্যাচে মোট আটটি ডিসমিসাল সম্পন্ন করে তিনি বাংলাদেশের উইকেটকিপারদের মধ্যে সর্বোচ্চ ডিসমিসালের নতুন জাতীয় রেকর্ড গড়েছেন। এর মধ্য দিয়ে ২০০৪ সালে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে খালেদ মাসুদ পাইলটের গড়া সাতটি ডিসমিসালের ২২ বছরের পুরনো রেকর্ডটি ভেঙে দেন লিটন।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ করেছিল ৩৪৬ রান। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৪০ রানে গুটিয়ে যায় আফগানিস্তান।