অক্টোবর ১২, ২০২৬, ০৭:৫৫ পিএম
দক্ষ কর্মী অভিবাসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) দেশগুলোতে আরও বিস্তৃত করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম ইউরোপীয় ব্লকের সদস্য দেশগুলোর শ্রমবাজারে বাংলাদেশি দক্ষ জনশক্তি ও পেশাজীবীদের জন্য সুযোগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি নিয়মিত ও বৈধ উপায়ে কর্মী গমনাগমনকে উৎসাহিত করতে চাহিদাভিত্তিক এবং ফলাফলমুখী ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার ওপর তাগিদ দেন।
সোমবার (১২ অক্টোবর) ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অভিবাসন ও স্বরাষ্ট্রবিষয়ক কমিশনার ম্যাগনাস ব্রুনারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে প্রতিমন্ত্রী এই দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।
উভয় পক্ষই অভিবাসন খাতের সংকট সমাধানে সমন্বিত ও কার্যকর যৌথ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে ঐকমত্য প্রকাশ করে।
বৈঠকে সামগ্রিক অভিবাসন ব্যবস্থাপনা, অনিয়মিত অভিবাসীদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং অভিবাসী চোরাচালান বন্ধে কার্যকর দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় পদক্ষেপ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বাংলাদেশের দৃঢ় অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, নিরাপদ অভিবাসন সংক্রান্ত বৈশ্বিক চুক্তি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যে ২০২৬ থেকে ২০৩০ মেয়াদে বাস্তবায়নের জন্য একটি পঞ্চবার্ষিক জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
আলোচনাকালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের কমিশনার ইউরোপে অনিয়মিত অভিবাসন ঠেকাতে তাদের সাম্প্রতিক ‘ইস্টার্ন করিডর ইনিশিয়েটিভ’ উদ্যোগের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এই কাঠামোর আওতায় অভিবাসীদের উৎস দেশ ও ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহৃত দেশগুলোসহ সংশ্লিষ্ট সব অংশীদারকে এক ছাতার নিচে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই উদ্যোগে অংশীদারত্বের বিষয়ে বাংলাদেশের ইতিবাচক মনোভাবের কথা জানিয়ে শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন রোধে নথিপত্র জালিয়াতি এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সরকারের একাধিক তদারকি কার্যক্রম চলছে। তবে অনিয়মিত অভিবাসনের মূল অর্থনৈতিক ও সামাজিক কারণগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করার পাশাপাশি নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানোই সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী পথ।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বহুমাত্রিক সম্পর্ককে আরও সংহত করার প্রত্যয় জানানো হয়। দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
আলোচনা শেষে অভিন্ন স্বার্থ ও অগ্রাধিকারমূলক বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক সংলাপ সচল রাখা এবং দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে আরও নিবিড় করার বিষয়ে একমত হয় ঢাকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন