অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০১:৪৯ পিএম
ইসরাইলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচন সামনে রেখে দীর্ঘদিনের মিত্র বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সরাসরি সমর্থন দেওয়া এড়িয়ে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইসরাইলে নেতানিয়াহুর জনসমর্থন যেমন কমছে, তেমনি খোদ যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও তাকে নিয়ে তীব্র মতভেদ তৈরি হয়েছে। ফলে দুই নেতার পারস্পরিক সম্পর্কের সমীকরণ স্পষ্টতই বদলাতে শুরু করেছে।
হোয়াইট হাউসে প্রথম মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইসরাইলের কট্টর ডানপন্থিদের একের পর এক দাবি পূরণ করেছিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার পররাষ্ট্রনীতি নেতানিয়াহুর অবস্থানকে শক্তিশালী করতে বড় ভূমিকা রেখেছিল। বিনিময়ে নেতানিয়াহুও নিজেকে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের সবচেয়ে যোগ্য কান্ডারি হিসেবে তুলে ধরতেন। তবে এবারের প্রেক্ষাপট আগের চেয়ে অনেকটাই আলাদা।
নির্বাচনে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এবং তার নেতৃত্বাধীন কট্টর ডানপন্থি জোট বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন ইয়াশার পার্টির নেতা গাদি আইজেনকট এবং তার বিরোধী জোট।
নেতানিয়াহুর সঙ্গে এই প্রকাশ্য দূরত্ব তৈরি হওয়ার কারণ নিয়ে বিশ্লেষণ চলছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক আরব সেন্টারের প্যালেস্টাইন-ইসরাইল কর্মসূচির প্রধান ইউসেফ মুনায়ার জানান, ট্রাম্পের অতীত নীতি ও নেতানিয়াহুর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের নিরিখে এবারের দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়টি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
সম্প্রতি টাইম সাময়িকীকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুকে সরাসরি সমর্থন দেওয়ার বিষয়ে তিনবার প্রশ্ন করা হলেও ট্রাম্প তা এড়িয়ে গেছেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে নেতানিয়াহুর নেতৃত্বের প্রশংসা করলেও তার প্রতিদ্বন্দ্বী আইজেনকট সম্পর্কে ট্রাম্প বলেছেন যে তার বিরুদ্ধে তিনি খারাপ কিছু শোনেননি।
অতীতে নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের সমর্থন মৌখিক বক্তব্যের চেয়ে পদক্ষেপে বেশি দৃশ্যমান ছিল।
২০১৭ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত প্রথম মেয়াদে মার্কিন দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে সরিয়ে নেন ট্রাম্প। তিনি গোলান মালভূমিতে ইসরাইলি দখলদারিত্বের স্বীকৃতি দেন এবং ২০১৫ সালের ইরান পরমাণু চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনকে সরিয়ে নেন। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন সংকটকে পাশ কাটিয়ে আরব দেশগুলোর সাথে ইসরাইলের সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে তিনি ভূমিকা রাখেন।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় মেয়াদে শপথ নেওয়ার পরও সেই নীতি বহাল ছিল। গাজায় সামরিক অভিযান চলাকালে বিপুল পরিমাণ মার্কিন অস্ত্র সরবরাহ করা হয় এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। এমনকি দুর্নীতির মামলায় বিচারাধীন নেতানিয়াহুকে ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়েছেন ট্রাম্প এবং গত বছর থেকে নেতানিয়াহুকে অন্তত সাতবার হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।
গাজায় স্থায়ী শান্তি এবং ইরান সংকট নিয়ে দুই নেতার মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর নীতিতে বড় রূপান্তর ঘটেনি।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ডনের বিশ্লেষক মাইকেল ওমের-ম্যান উল্লেখ করেন, দুই নেতা নিজেদের প্রকাশ্য সম্পর্ক সতর্কভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন। তার মতে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে একেবারে ত্যাগ করেননি বরং তিনি একজন বাস্তববাদী রাজনীতিবিদ, যিনি বিভিন্ন দেশে পছন্দের প্রার্থীদের জয়-পরাজয় দেখেছেন। আইজেনকট ক্ষমতায় এলেও যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের বড় পরিবর্তন আসবে না বলেই তিনি মনে করেন।
এদিকে মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন রিপাবলিকান পার্টির ভেতরেও বিভক্তি বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক সংকটবিষয়ক গবেষণা সংস্থার জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক মাইরাভ জোনসেইন জানান, ইরান যুদ্ধ এবং ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরের বিভক্তি নেতানিয়াহুকে সমর্থনের অনীহার অন্যতম কারণ। ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের মতো প্রভাবশালী নেতারা ইরানে হামলার পক্ষে নেতানিয়াহুর ভূমিকার বিরোধিতা করেছিলেন।
নেতানিয়াহুর প্রচারণাতেও এবার বদল দেখা গেছে। আগের মতো ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার বিলবোর্ড না ঝুলিয়ে তিনি হিজবুল্লাহ প্রধান নাঈম কাসেম, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানির মতো প্রতিপক্ষদের নাম সামনে আনছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন