মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬,
প্রবাসী অধিকার সুরক্ষা

প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০২:২১ পিএম

প্রবাসীদের জন্য বিশেষ আদালত গঠনের পরিকল্পনা সরকারের ঘোষণা আইনমন্ত্রীর

প্রবাসীদের অর্থ-সম্পদ ও অধিকার রক্ষা এবং দেশে থাকা তাদের নানামুখী আইনি সংকট দ্রুত সমাধানে বিভাগীয় পর্যায়ে বিশেষায়িত আদালত গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত সোনার মানুষ সম্মিলন-২০২৬ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। 

তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত এই আদালতে প্রবাসীদের বিভিন্ন বিরোধ ও আইনি মামলা দ্রুত পরিচালনার এখতিয়ার থাকবে। বর্তমানে আদালত গঠনের খসড়া তৈরির কাজ চলছে এবং জনপরামর্শ শেষে সংসদীয় অধিবেশনে বিল আকারে তা তোলার চিন্তা রয়েছে। প্রবাসী শ্রমিকদের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রিক্রুটিং প্রক্রিয়ায় যুক্ত অসাধু ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের ওপর জোর দেন আইনমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি হলো শ্রম রপ্তানি। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীদের অনিয়মের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি কর্মীরা প্রায়ই ন্যায্য মজুরি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ভোর থেকে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রস্তুতি নেওয়া, কাজের জন্য দুই ঘণ্টা আগে বের হওয়া এবং দিনভর পরিশ্রম শেষে রাত আটটা বা নয়টায় ঘরে ফেরার পরও তারা অন্য দেশের শ্রমিকদের তুলনায় কম পারিশ্রমিক পান।

শ্রমের এই বৈষম্য দূর করতে নজরদারি বাড়ানো জরুরি বলে তিনি মন্তব্য করেন।

নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ভুয়া নথির কারণে বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশি কর্মীরা বিপাকে পড়ছেন বলে জানান মন্ত্রী। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঁচ হাজার প্রবাসীর ভিসা বাতিল হয়েছে এবং অনেকের নবায়ন প্রক্রিয়া আটকে আছে। ভুয়া সনদ ও অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি দিয়ে যাচাই করে ধরা পড়ায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে।

দেশে প্রবাসীদের আইনি সুরক্ষা দিতে জাতীয় আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক ২৪ ঘণ্টা আইনি সহায়তা চালু রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। সেখানে পরামর্শের পাশাপাশি মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধ মেটানো হচ্ছে।

প্রবাসীরা বছরের পর বছর ঘাম ঝরিয়ে দেশে অর্থ পাঠান, কিন্তু দেশে ফিরে জমিজমা বা সম্পদ নিয়ে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বিরোধে জড়ালে দীর্ঘমেয়াদি আইনি জটিলতায় পড়েন। অনেক সময় প্রবাসে বসেই আইনজীবীর পেছনে বিপুল অর্থ খরচ করতে হয় এবং জীবদ্দশায় বিচার না পেয়ে তাদের উত্তরাধিকারীদের সেই মামলা টেনে নিতে হয়। অভ্যন্তরীণ শ্রমিকদের জন্য শ্রম আদালত থাকলেও প্রবাসীদের নিজস্ব বিরোধের কোনো বিশেষায়িত ব্যবস্থা নেই। এই সংকট দূর করতেই বিভাগীয় সদরে বিশেষ আদালত বসানোর রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামীতে বাংলাদেশেই পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে যাতে শ্রমিকদের বাইরে যেতে না হয়, বরং অন্য দেশ থেকেই বাংলাদেশ কর্মী আনতে সক্ষম হবে। অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষায় বেসরকারি গবেষণা সংস্থা রামরুর ভূমিকারও প্রশংসা করেন তিনি।