অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০২:০৬ পিএম
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বিরোধী জোটের পদযাত্রাকে কেন্দ্র করে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করেছে স্থানীয় পুলিশ।
অনুমতি ছাড়া পদযাত্রা পরিচালনা এবং চলার পথে ট্রাক ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার অভিযোগে এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সোমবার ১২ অক্টোবর বিরোধী রাজনৈতিক জোট ইন্ডিয়ার এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে দিল্লি পুলিশের বারাখাম্বা রোড ও তিলক মার্গ থানায় মামলা দুটি নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বাতিলের দাবিতে বিরোধীরা এই কর্মসূচির ডাক দেন।
কংগ্রেসের উদ্যোগে আয়োজিত `চলো দিল্লি` শীর্ষক এই কর্মসূচিতে বিরোধী শিবিরের শীর্ষপর্যায়ের নেতারা সরাসরি অংশ নেন। এতে উপস্থিত ছিলেন রাহুল গান্ধী, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে, সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, আরজেডি নেতা তেজস্বী যাদব এবং সিপিআইএম নেতা এম এ বেবি।
সোমবার বারাখাম্বা রোড এলাকা থেকে শুরু হয়ে কয়েক হাজার সমর্থক ভারতের সুপ্রিম কোর্টের অভিমুখে মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি ভোটার তালিকার বিতর্কিত সংশোধন কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি তোলেন তারা।
এই বিষয়গুলো সামনে এনে সুপ্রিম কোর্টে একটি যৌথ আবেদনও জমা দিয়েছেন বিরোধী দলগুলোর শীর্ষ নেতারা। তাদের সুস্পষ্ট অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় গুরুতর অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে। এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক ভূমিকা নিয়েও প্রকাশ্য প্রশ্ন তোলেন তারা।
গত কয়েক দিন ধরে দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিভিন্ন কর্মসূচিকে ঘিরে ব্যাপক উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিরোধীদের ধারাবাহিক প্রতিবাদের ধারাবাহিকতায় শনিবার রাজপথে অবস্থান নিয়েছিল ককরোচ জনতা পার্টি বা সিজেপি। সেই কর্মসূচিতে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষকে সাময়িকভাবে আটক করেছিল পুলিশ।
এর আগে গেল সপ্তাহে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে বিরোধী নেতাদের একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করে। এরপর সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানাতে দেশটির প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গেও সাক্ষাতের উদ্যোগ নিয়েছিলেন তারা, যদিও সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত ফলপ্রসূ হয়নি।
দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, গত ১০ দিনে মধ্য দিল্লির বিভিন্ন থানায় অননুমোদিত বিক্ষোভ, সহিংসতা ও সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করার অভিযোগে দুই ডজনেরও বেশি প্রথম তথ্য বিবরণী বা মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে ১০ অক্টোবরের আরেকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে ২০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাদের পরবর্তীতে জামিনে মুক্তি দেওয়া হয়।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন