অক্টোবর ১৩, ২০২৬, ০২:১৯ পিএম
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে আর্থিক নিয়ম ভাঙার অভিযোগে কেবল লিগ অবনমন যথেষ্ট শাস্তি নয় বলে মন্তব্য করেছেন লিভারপুলের সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন জেরার্ড।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিয়মভঙ্গের ১১৫টি অভিযোগের সবকটিতে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর সাবেক চ্যাম্পিয়ন ক্লাবটি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ক্লাবটি শেষ পর্যন্ত কী শাস্তির মুখোমুখি হতে পারে, তা নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে নানামুখী আলোচনা চলছে। এর মধ্যেই ক্লাবটির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তুলেছেন সাবেক এই ইংলিশ মিডফিল্ডার।
ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে মূলত ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত আর্থিক বিধিনিষেধ লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৫ সালে লিভারপুল ছাড়া জেরার্ড ২০১৩-১৪ মৌসুমে সিটির কাছে শিরোপা দৌড়ে রানার্সআপ হওয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন। সম্প্রতি `ওভারল্যাপ ডেইলি` অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সিটিকে কী ধরণের শাস্তি দেওয়া উচিত—এমন প্রশ্নের জবাবে জেরার্ড স্পষ্ট জানান, ক্লাবটির দুর্ভোগ পাওয়া উচিত, ঠিক যেভাবে তারা নয়-দশ বছর ধরে অন্য দলগুলোকে ভুগিয়েছে।
তদন্তাধীন সময়ের মধ্যে জেতা শিরোপাগুলো সিটির কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এমনকি বাধ্যতামূলক অবনমন দিয়ে তাদের নিচের সারির টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নামিয়ে দেওয়ার আলোচনাও চলছে।
তবে অবনমনকে যৌক্তিক শাস্তি বলে মনে করেন না জেরার্ড। তার মতে, অবনমিত করা হলে সিটি নিশ্চিতভাবেই পরের মৌসুমে শীর্ষ তিনে থেকে আবার প্রিমিয়ার লিগে ফিরে আসবে। পাশাপাশি অন্য একটি চ্যাম্পিয়নশিপ ক্লাবের উঠে আসার স্বাভাবিক সুযোগও তারা দখল করবে।
সে কারণে ক্লাবটিকে প্রিমিয়ার লিগে রেখেই কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিক শাস্তি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক এই তারকা। জেরার্ড উল্লেখ করেন, এটি তার ব্যক্তিগত অভিমত এবং তিনি এটিকে একমাত্র সঠিক সমাধান হিসেবে দাবি করছেন না। তবে দীর্ঘ সময়ের জন্য খেলোয়াড় দলবদলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া এবং প্রতি মৌসুমে পয়েন্ট কেটে নেওয়ার মাধ্যমে একটি কঠোর দৃষ্টান্ত তৈরি করা উচিত।
সিটির কাছ থেকে শিরোপা কেড়ে নিলে তা অতীতের রানার্সআপ হিসেবে লিভারপুলের হাতে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
তবে সেই সম্ভাবনাও স্বস্তি দিচ্ছে না দীর্ঘদিন শিরোপা জয়ের খুব কাছে গিয়েও ব্যর্থ হওয়া এই ফুটবলারকে। জেরার্ড জানান, তিনি কখনো প্রিমিয়ার লিগ জেতেননি—সেই হতাশা থেকে এই কথা বলছেন না। বরং অনিয়মের কারণে সিটি তাদের এবং বাকি দলগুলোর কাছ থেকে যে সোনালী স্মৃতি ও মুহূর্তগুলো ছিনিয়ে নিয়েছে, সেগুলোর কোনো ক্ষতিপূরণ হয় না।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন