অক্টোবর ১৭, ২০২৬, ০১:০৯ পিএম
ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে কংগ্রেসের নেতৃত্বে আয়োজিত রাজপথের আন্দোলনে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দিয়েছে তামিলনাড়ুর ক্ষমতাসীন দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)।
চেন্নাইয়ে ভোটার তালিকার অনিয়ম ও বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। গত ৩ অক্টোবর জাতীয় পর্যায়ের বিরোধী জোট `ইন্ডিয়া`-তে যুক্ত হওয়ার পর নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে এটিই টিভিকে এবং দলটির শীর্ষ নেতা মুখ্যমন্ত্রী থালাপতি বিজয়ের দলের প্রথম কোনো প্রকাশ্য যৌথ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ।
`গণতন্ত্র রক্ষা` ব্যানারে চেন্নাইয়ের এই বিশেষ প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করেন কংগ্রেসের সংসদ সদস্য বি মানিকাম ঠাকুর এবং তামিলনাড়ু কংগ্রেস কমিটি (টিএনসিসি)।
ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও ধারাবাহিক কর্মসূচি চলছে। সেই প্রেক্ষাপটে চেন্নাইয়ে অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভে ইন্ডিয়া জোটের সাতটি শরিক দলের শীর্ষ নেতারা একমঞ্চে উপস্থিত হন।
এর আগে গত ১০ অক্টোবর চেন্নাইয়ে কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একান্ত বৈঠক করেন তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী ও টিভিকে প্রধান সি জোসেফ বিজয়।
সেই বৈঠকের মাত্র কয়েক দিনের মাথায় কংগ্রেসের আহ্বানে রাজপথের এই যৌথ আন্দোলনে সক্রিয় উপস্থিতি দেখাল তাঁর দল।
বৈঠক প্রসঙ্গে জানা গেছে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির বিরুদ্ধে ভবিষ্যতে জাতীয় ও আঞ্চলিক স্তরের নীতিগত আলোচনা, নির্বাচনী প্রচার এবং যৌথ গণবিক্ষোভে অংশ নিতে বিজয় ও তাঁর রাজনৈতিক দলকে আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন রাহুল গান্ধী। চেন্নাইয়ের শহরতলি নীলাঙ্করাইয়ে বিজয়ের নিজস্ব বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে সরাসরি দেখা করেছিলেন রাহুল।
সেখানে দুই নেতার মধ্যে ভারতের সামগ্রিক রাজনীতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়।
ওই সাক্ষাতে ধারাপুরাম ও মাদুরান্তাকাম বিধানসভা উপনির্বাচনে টিভিকের অভাবনীয় সাফল্যের জন্য বিজয়কে উষ্ণ অভিনন্দন জানান রাহুল। তামিলনাড়ুতে ধর্মনিরপেক্ষ সামাজিক ন্যায়বিচার বিজয় জোট গঠনের পর শীর্ষ দুই নেতার মধ্যে এটিই ছিল প্রথম আনুষ্ঠানিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক।
চেন্নাইয়ের বিক্ষোভ সমাবেশে অংশ নিয়ে বিরোধী নেতারা অভিযোগ করেন, বিশেষ নিবিড় সংশোধনের আড়ালে পরিকল্পিতভাবে বিপুলসংখ্যক বৈধ ভোটারের নাম তালিকা থেকে কেটে ফেলা হয়েছে।
বাদ পড়া এসব নাগরিকের একটি বিশাল অংশ মুসলিম, ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও সমাজের অনগ্রসর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষ বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।
বক্তাদের হিসাব অনুযায়ী, কেবল তামিলনাড়ু রাজ্যেই প্রায় ৯৭ লাখের বেশি ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে।
সমাবেশে বিরোধী নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সংশোধনের নামে নাগরিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ভারতীয় সংবিধানের মূল চেতনার ওপর নগ্ন আঘাত হানা হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, সংখ্যালঘু ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ভোটাধিকারবঞ্চিত করার মাধ্যমে নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর এমনভাবে কারসাজি করা হচ্ছে যাতে কেন্দ্রের ক্ষমতাসীন বিজেপি দলীয়ভাবে সরাসরি লাভবান হতে পারে।
এই পুরো বিতর্কিত প্রক্রিয়াকে বক্তারা সরাসরি `গণতান্ত্রিক হত্যাকাণ্ড` বলে আখ্যায়িত করেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন