শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬,
হাদিসের আলো

প্রতিবেশীর উপহার সামান্য হলেও তা তুচ্ছ ভাবা নিষিদ্ধ হাদিসের নির্দেশনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১০:০৮ এএম

প্রতিবেশীর উপহার সামান্য হলেও তা তুচ্ছ ভাবা নিষিদ্ধ হাদিসের নির্দেশনা

ছবি: Ai

প্রতিবেশীর দেওয়া উপহার সামগ্রী সামান্য হলেও তা তুচ্ছ না ভেবে সানন্দে গ্রহণ করার তাগিদ দিয়েছে ইসলাম। হাদিস শরিফে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘হে মুসলিম নারীরা! কোনো প্রতিবেশী নারী যেন অন্য প্রতিবেশী নারীর উপহারকে তুচ্ছ না ভাবে, যদিও তা ছাগলের খুর হয়।’ বর্ণনাটি সহিহ বুখারির ৬০১৭ নম্বর হাদিসে সংকলিত হয়েছে।

উপহারের পরিমাণ নয়, আন্তরিকতাই মূল। ইসলামি আইন ও হাদিস গবেষকদের মতে, এই নির্দেশনার পেছনে কয়েকটি গভীর সামাজিক ও আত্মিক শিক্ষা নিহিত রয়েছে। প্রথমত, হাদিসটিতে প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে, যেখানে উপহার দেওয়া-নেওয়া পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম।

দ্বিতীয়ত, প্রতিবেশীকে নিয়মিত উপহার দেওয়া, বিশেষ করে খাদ্যসামগ্রী পাঠানো মুস্তাহাব আমল।

তৃতীয়ত, প্রতিবেশী যে সামগ্রীই উপহার হিসেবে পাঠাক না কেন, তা যত সাধারণ বা সামান্যই হোক, হাসিমুখে গ্রহণ করা একজন মুমিনের দায়িত্ব। কোনো উপহারকে অবজ্ঞার চোখে দেখা সামাজিক বন্ধনকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

চতুর্থত, কোনো মুসলমান তার প্রতিবেশীর আর্থিক অসচ্ছলতা, দারিদ্র্য কিংবা সীমিত সামর্থ্য নিয়ে উপহাস বা কটূক্তি করতে পারবে না। মানুষের আর্থিক অবস্থার চেয়ে পারস্পরিক সৌহার্দ্য রক্ষা করাই ইসলামের মৌলিক দৃষ্টিভঙ্গি।

পঞ্চমত, আল মাউসুয়াতুল হাদিসিয়্যার ব্যাখ্যা অনুসারে, হাদিসটিতে নারীদের প্রতি বিশেষভাবে সম্বোধন করার কারণ হলো, সাধারণত তাদের মধ্যে অন্যের অবদানকে তুচ্ছ বিবেচনা করা এবং নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তাই সামাজিক অহমিকা দূর করে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার জন্য এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।