সেপ্টেম্বর ২৬, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাত, দুঃখ-বেদনা ও দুশ্চিন্তা অনেক সময় মানুষের নির্জন রাতগুলোকে দুর্বিষহ করে তোলে। গভীর রাতে যখন চারপাশের সব কোলাহল থেমে যায় এবং ব্যস্ত জনপদে সুনসান নীরবতা নেমে আসে, তখন মানুষের মনে ভিড় করে অতীতের বহু স্মৃতি ও বেদনাময় অনুভূতি। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘশ্বাসের সাথে স্বাভাবিক ঘুমও মিলিয়ে যায়। এই ধরনের যন্ত্রণাকাতর ও নিঃসঙ্গ রাতে নামাজ একজন মুমিনের জীবনে পরম আশ্রয় হিসেবে কাজ করে। মহান সৃষ্টিকর্তার দরবারে সিজদায় অবনত হয়ে হৃদয়ের সব আকুতি তুলে ধরার মাধ্যমেই নিরাময় হয় অভ্যন্তরীণ যন্ত্রণা।
আশ্রয়হীনতার সংকটেই মূলত মানুষের স্বাভাবিক ঘুম হারাম হয়ে যায়। পবিত্র কোরআনের সুরা বাকারার ১৫৩ নম্বর আয়াতে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনার নির্দেশ দিয়ে মুমিনদের পাশে আল্লাহর অবস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। নামাজ আল্লাহ ও বান্দার মধ্যকার আত্মিক সেতুবন্ধ তৈরি করে মানসিক চাপ ও মনের যাবতীয় গ্লানি দূর করে। সংকটকালে বান্দা যখন নিজেকে এমন এক ক্ষমতার কাছে সমর্পণ করে যিনি যেকোনো সংকট উত্তরণে সক্ষম, তখন অস্থিরতা দূর হয়। হজরত হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিস অনুযায়ী, যেকোনো বিষয় নবীজিকে চিন্তিত করে তুললে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে নামাজে দাঁড়াতেন।
দুশ্চিন্তার সাগরে নিমজ্জিত না থেকে গভীর রাতে অজু করে জায়নামাজে দাঁড়ালে হৃদয়ে প্রকৃত প্রশান্তি আসে। হজরত বেলালকে (রা.) নামাজের ইকামত দিয়ে মনের প্রশান্তি এনে দেওয়ার আহ্বান জানাতেন মহানবী। এছাড়া অতীত ব্যর্থতা বা স্বপ্নভঙ্গের কষ্টকর অনুভূতি যখন মনকে আচ্ছন্ন করে ফেলে, তখন নামাজের মাধ্যমে চোখের প্রশান্তি নেমে আসে। সুনানে নাসায়ির হাদিসে নবীজি উল্লেখ করেছেন যে তাঁর চোখের শীতলতা ও শান্তি নামাজের ভেতরেই রাখা হয়েছে।
পার্থিব জীবনের মোহ ও হতাশা দূর করতে সিজদার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জন অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখে। সহিহ মুসলিমের বর্ণনায় এসেছে, সিজদারত অবস্থাতেই বান্দা তাঁর প্রতিপালকের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে, যার ফলে ওই মুহূর্তে অধিক পরিমাণে দোয়ার তাগিদ দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআনের সুরা মাআরিজে মানুষের সহজাত অস্থির চিত্ত ও বিপদে হা-হুতাশ করার প্রবণতার কথা উল্লেখ করে কেবল নিয়মিত নামাজ আদায়কারীদের এই দুর্বলতা থেকে মুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
মানুষের রূঢ় আচরণে মনের ভেতর যে সংকোচ তৈরি হয়, সিজদায় গিয়ে আল্লাহর গুণগান গাইলে সেই মানসিক ভার হালকা হয়ে যায়। সুরা হিজরে অন্তরের সংকোচ কাটাতে তাসবিহ পাঠ ও সিজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। তবে নামাজ তখনই সত্যিকার অর্থে অন্তরের আরোগ্য হয়ে ওঠে, যখন বান্দার মধ্যে আল্লাহর প্রতি গভীর বিশ্বাস ও আন্তরিক সমর্পণ থাকে। সুরা বাকারার ৪৫ নম্বর আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে বিনয়ী ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের জন্য এই পথে অবিচল থাকা অত্যন্ত কঠিন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন