অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৬:৩০ পিএম
বিগত সময়ে কার্যকর রাষ্ট্রীয় নীতি ও পদক্ষেপের অভাবে দেশের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় রাজধানীর উত্তরায় তৈরি পোশাক খাতের মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নূরুল কাদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
তৈরি পোশাক কারখানাসমূহের পরিবেশগত, সামাজিক ও সুশাসনসংক্রান্ত (ইএসজি) কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ এবং টেকসই সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া হবে।
উপদেষ্টা ড. তিতুমীর স্পষ্ট করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক কষ্ট লাঘবে ফ্যামিলি কার্ডের মতো সমন্বিত সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নে হাত দিয়েছে, যার সফল প্রয়োগে বিদ্যমান দারিদ্র্যের হার উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে।
অর্থনীতির প্রধান তিন সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।
বিগত আট মাসে বর্তমান সরকার কেবল জ্বালানি খাতেই ৪ দশমিক ১২ বিলিয়ন ডলার ভর্তুকি দিয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর আর্থিক কাঠামো, লাগামহীন মূল্যস্ফীতির তীব্র চাপ এবং শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্ব দূরীকরণ—এই তিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, নতুন করে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা না চাপিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আদায় বাড়ানো এবং উৎপাদনশীল খাতে সরাসরি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করাই সরকারের মূল কৌশল। একই সঙ্গে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে রাষ্ট্রীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি করে একটি দক্ষ ও সুস্বাস্থ্যের মানবসম্পদ গড়ে তোলার রূপকল্প নিয়ে এগোচ্ছে সরকার।
বাংলাদেশ নিজস্ব সক্ষমতায় ২০২৯ সালে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ নিশ্চিত করবে বলে উপদেষ্টা দৃঢ় আশাবাদ প্রকাশ করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের এই মৌলিক কাঠামোগত রূপান্তর আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীরাও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। বর্তমান সরকারের সার্বিক রূপকল্প বাস্তবায়নে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিনিধিত্বকারী বিজিএমইএ, বিকেএমইএ এবং বিটিএমএ কার্যকর ও অসাধারণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানান, আন্তর্জাতিক বাজারের পরিবর্তিত ক্রেতাচাহিদা ও ভবিষ্যতের রপ্তানি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের কারখানাগুলোকে আরও বেশি কমপ্লায়েন্ট হতে হবে।
প্রাথমিকভাবে ৩২৬টি তৈরি পোশাক কারখানা এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।
কারখানার এই সংখ্যাকে এখনো যথেষ্ট নয় উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পের সামগ্রিক অস্তিত্ব ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় অচিরেই এই প্ল্যাটফর্মের নিবন্ধন সব সদস্য কারখানার জন্য বাধ্যতামূলক করা হবে। এ লক্ষ্যে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ সমন্বিতভাবে যৌথ উদ্যোগ নেবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশে নিযুক্ত ডেনমার্কের রাষ্ট্রদূত ক্রিশ্চিয়ান ব্রিক্স মোলার সরকারের অর্থনৈতিক সংস্কার প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর দেশের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, জাতীয় ঐক্য, গণতান্ত্রিক পুনর্গঠন এবং উত্তরণ প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তুলতে `জুলাই চার্টার` বাস্তবায়ন করা অপরিহার্য।
পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, তৈরি পোশাক শিল্প বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির মূল ভিত্তি। গতানুগতিক নিয়ম মেনে চলার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আন্তর্জাতিক মানের স্থায়িত্ব বা সাসটেইনেবিলিটিতে রূপান্তর এখন সময়ের প্রধান দাবি। একটি শক্তিশালী রপ্তানি অবকাঠামোই দেশকে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন লক্ষ্যে পৌঁছে দিতে সক্ষম হবে।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির বিআইজিডির গবেষণা পরিচালক অধ্যাপক মুন্সি সোলায়মান, ম্যাপড ইন বাংলাদেশের টেকনিক্যাল লিড অধ্যাপক মতিন আব্দুল্লাহ এবং বিজিএমইএর পরিচালক শেখ হোসাইন মোহাম্মদ মুস্তাফিজ।
এ সময় বিজিএমইএর জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান এবং পরিচালক নাফিস উদ দৌলাসহ শীর্ষস্থানীয় পোশাকশিল্প উদ্যোক্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন