জুন ১৪, ২০২৬, ০৮:৪০ পিএম
মুফতি আব্দুল মালেক জানিয়েছেন, বিশ্বকাপের উন্মাদনা পুরো জাতিকে একধরনের পাগলামির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। নিজেদের অংশগ্রহণ বা কোনো অর্জনের বিন্দুমাত্র সুযোগ না থাকলেও ভিনদেশি দলের সমর্থক হয়ে সময় ও অর্থের ব্যাপক অপচয় করছে এ দেশের মানুষ। এমনকি এই উন্মাদনার কারণে মানুষের মূল্যবান মেধারও চরম অপচয় ঘটছে বলে তিনি মনে করেন।
এই সাময়িক বিনোদন ও ভিনদেশি পতাকাকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভক্তি ও ভয়াবহ সংঘাত বাড়ছে।সারা রাত জেগে খেলা দেখার কারণে ফজরসহ জোহর, আসর ও মাগরিবের মতো অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজও ছুটে যাচ্ছে অনেকের। সরকারি ও বেসরকারি অফিসে কর্মরত ব্যক্তিরা রাতে না ঘুমানোর ফলে দিনের বেলায় দায়িত্ব পালনের সময় ঝিমিয়ে পড়ছেন। পরিবার, স্ত্রী, সন্তান ও সমাজের প্রতি নিজেদের নিয়মিত কর্তব্য ভুলে সবাই শুধু খেলার স্কোরের দিকে মনোযোগ ধরে রাখছেন।
বড় বড় ব্যবসায়ী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ পর্যন্ত কাজের ফাঁকে ফাঁকে স্কোর জানার জন্য অস্থির হয়ে থাকেন।বিশ্বজুড়ে গাজা, কাশ্মীর ও ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানরা যখন বিপদে আছে, তখন এমন বিনোদনে মেতে ওঠা গভীর উদ্বেগের। মুফতি আব্দুল মালেক দাবি করেন, আন্তর্জাতিক পরাশক্তিগুলো সুকৌশলে নকশা এঁকে মানুষকে এই খেলার নেশায় ডুবিয়ে রেখেছে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া অন্যায়, অবিচার ও নিপীড়ন থেকে সাধারণ মানুষের দৃষ্টি সম্পূর্ণ অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়া।
দেশের সীমান্ত এলাকার নিরাপত্তার বিষয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও মানুষ এসব ভুলে খেলায় মগ্ন। কিছুদিন আগে ভৈরব এলাকায় এই খেলা নিয়ে দুই দলের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই সময় প্রায় পাঁচ ঘণ্টা রেল চলাচল বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা। নিছক বিনোদনের নামে এমন মানুষদের সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ করা হচ্ছে, যাদের পরকালের প্রতি কোনো বিশ্বাস নেই। খেলাধুলার সঙ্গে জুয়া, মদ এবং পর্দাহীনতার মতো নানা অনৈতিক বিষয় যুক্ত হয়ে তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি সতর্ক করেছেন।
মুফতি আব্দুল মালেক একটি হাদিসের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে জানান, এমন একসময় আসবে যখন মানুষ ব্যভিচার, মদ ও বাদ্যযন্ত্রকে বৈধ মনে করবে। বর্তমান সময়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে নতুন করে সংগীত, নাটক ও নৃত্য যুক্ত করার বিষয়টির কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে এই প্রেক্ষাপটেই। এসব পদক্ষেপ দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের চারিত্রিক ও নৈতিক অবক্ষয়ের স্পষ্ট ইঙ্গিত বহন করে। সব ধরনের সংকট ও এই সামাজিক পাগলামি থেকে উত্তরণের জন্য সবাইকে পরকালের ভয় ও ধর্মীয় অনুশাসনের দিকে ফিরে আসার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন