অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৭:৩২ পিএম
ফ্রান্সজুড়ে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট এবং মানুষ ও সরকারি স্থাপনায় হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যেকোনো গণতান্ত্রিক দেশে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের অধিকার সুরক্ষিত রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছে সংস্থাটি। সোমবার ব্রাসেলসে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মার্কুস ল্যামার্ট এই অবস্থানের কথা জানান।
তিনি বলেন, গণতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ প্রদর্শন একটি মৌলিক নাগরিক অধিকার, যা সর্বাবস্থায় অক্ষুণ্ণ ও সুরক্ষিত রাখতে হবে। তবে বিক্ষোভের নামে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ কিংবা ব্যক্তি ও সরকারি সম্পদে হামলা কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
নাগরিকদের মৌলিক অধিকার পূর্ণ সমুন্নত রেখে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা, সাধারণের সম্পদ ও সরকারি প্রতিষ্ঠান রক্ষায় ফরাসি কর্তৃপক্ষের চলমান প্রচেষ্টাকে কমিশন সমর্থন করে বলে উল্লেখ করেন ল্যামার্ট। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সহিংস ঘটনাগুলোর তদন্ত বর্তমানে জাতীয় পর্যায়ে পরিচালিত হচ্ছে এবং যেকোনো দেশে অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখার মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের।
একই সংবাদ ব্রিফিংয়ে ইউরোপীয় কমিশনের আরেক মুখপাত্র টমাস রেনিয়ে চলমান অস্থিরতায় অনলাইন মাধ্যমের দায়বদ্ধতার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, রাজপথের অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে সহিংসতা উসকে দেওয়া কিংবা সংঘাতের মাত্রা বাড়িয়ে তোলার ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোর ভূমিকা নিবিড়ভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্টের বিধিমালার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে রেনিয়ে জানান, অনলাইনে বিদ্বেষ ও সংঘাত ছড়ানো কিংবা সহিংস তৎপরতার পরিধি বিস্তৃত করার যেকোনো চেষ্টা প্রতিহত করতে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মগুলোকে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। সহিংসতার উৎস যে প্রান্তে বা ফোরামেই থাকুক না কেন, এই আইনি বাধ্যবাধকতা সবার ক্ষেত্রে একইভাবে কার্যকর থাকবে।
তিনি আরও নিশ্চিত করেন যে, ইউরোপীয় কমিশন ফরাসি সরকার এবং দেশটির ডিজিটাল সার্ভিসেস সমন্বয়কারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছে এবং চলমান পরিস্থিতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে সোমবার ফরাসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে কমিশনের আরেকটি বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে।
শনিবার ফ্রান্সের একাধিক প্রধান শহরে ছড়িয়ে পড়া সরকারবিরোধী বিক্ষোভ তীব্র রূপ নেয়।
ফরাসি সরকারি পরিসংখ্যান থেকে জানা গেছে, ওই দিন বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রায় এক হাজার সদস্য আহত হয়েছেন। বিক্ষোভকারীদের তাণ্ডব ও লুটপাটের শিকার হয়েছে অন্তত এক হাজার ৫০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। বিশৃঙ্খলা ও নাশকতার অভিযোগে এখন পর্যন্ত প্রায় দুই হাজার ৪০০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ফরাসি পুলিশ।
সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের উদ্ধৃতি দিয়ে পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়েছে, এই নজিরবিহীন সহিংসতায় দেশজুড়ে আর্থিক ক্ষয়ক্ষতির মোট পরিমাণ ইতিমধ্যে কয়েক শত কোটি ইউরো ছাড়িয়ে যেতে পারে।
তথ্যসূত্র: আনাদোলু

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন