অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৯:৪৯ পিএম
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তে নতুন করে দুই দেশের বাহিনীর মধ্যে দফায় দফায় তীব্র সংঘর্ষ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। তালেবান যোদ্ধাদের গুলিবর্ষণের পাল্টা জবাবে খাইবার পাখতুনখাওয়ার আপার কুররম ও ঘোজগড়ি এলাকায় কামান ও ভারী অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তানের সেনাবাহিনী।
এতে তালেবানের একাধিক চৌকি ধ্বংস এবং কয়েকজন যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম দাবি করেছে। দেশটির গণমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন নিরাপত্তা সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, আপার কুররম সীমান্ত এলাকায় আফগান তালেবানের টপসার পোস্ট ও শিপোলা বেস ক্যাম্পে কামানের গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে তাদের শিপোলা ঘাঁটিটি পুরোপুরি গুঁড়িয়ে গেছে বলে জানানো হয়েছে।
ঘোজগড়ি সীমান্তেও পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পাল্টা অভিযানে তালেবানের কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিরাপত্তা সূত্রের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের তীব্র আক্রমণের মুখে তালেবান যোদ্ধারা একটি সীমান্তচৌকি ফেলে চলে যান।
পরবর্তীতে সীমান্তের কুররম এলাকায় আফগান তালেবান যোদ্ধারা পুনরায় বিনা উসকানিতে গুলিবর্ষণ শুরু করলে পাকিস্তানি বাহিনী আবারও ভারী অস্ত্র প্রয়োগ করে জবাব দেয়। পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের অভিযোগ, আফগান তালেবান সরকার প্রকাশ্যে জঙ্গিদের মদদ দিচ্ছে। কর্মকর্তারা জানান, দেশের অখণ্ডতা ও সীমান্ত সুরক্ষায় সেনাবাহিনী পূর্ণ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে আফগান বার্তাসংস্থা খ্যামা প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, শনিবার আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত এলাকায় তালেবান বাহিনী ও পাকিস্তানি সেনাদের মধ্যে তীব্র সংঘাত রূপ নেয়।
সংঘর্ষের মূল কেন্দ্র ছিল আফগানিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পাকতিয়া প্রদেশের দান্ড পাতান জেলা সংলগ্ন এলাকা, যা পাকিস্তানের কুররম জেলার বিপরীতে অবস্থিত। স্থানীয় সূত্রের বরাতে সংস্থাটি জানায়, দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি ব্যাপক গুলিবিনিময় হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে দান্ড পাতান জেলার একটি বেসামরিক আবাসিক এলাকায় কয়েকটি রকেট এসে পড়ে। তবে এসব রকেট হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে কিংবা কোনো সাধারণ নাগরিক হতাহত হয়েছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীন সূত্রে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তালেবান নিয়ন্ত্রিত বাখতার নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, পাকতিয়া প্রদেশে আফগান নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাদের কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা সম্মুখযুদ্ধে অন্তত সাতজন পাকিস্তানি সেনা সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে এই দাবির সত্যতাও স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি এবং পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকেও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া বা তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
গত এক বছর ধরে দুই দেশের বিতর্কিত সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত ব্যবধানে এমন সংঘাত চলছে। জাতিসংঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত এক বছরে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে ৫০০ জনেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ জানিয়ে আসছে যে, আফগানিস্তানের মাটি ব্যবহার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানের অভ্যন্তরে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। পাকিস্তান সরকারের দাবি, এই গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তালেবানের সম্পৃক্ততা কেবল সীমান্ত পেরিয়ে যাতায়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তাদের সামরিক প্রশিক্ষণ প্রদান, আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র সরবরাহ এবং অভিযানের কৌশলগত পরিচালনায় সরাসরি পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া হচ্ছে।
পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুসারে, কেবল ২০২৬ সালেই আফগানিস্তানের ভূখণ্ড থেকে চালানো সন্ত্রাসী তৎপরতায় পাকিস্তানের ১ হাজার ৩২৭ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৪৮৪ জন আহত হয়েছেন।
কর্মকর্তাদের ভাষ্য, পাকিস্তানি বাহিনী যখনই সন্ত্রাসী আস্তানা লক্ষ্য করে অভিযান চালিয়েছে, তখন তালেবান প্রশাসন ওই গোপন অবকাঠামো ভেঙে দেওয়ার বদলে সন্ত্রাসীদের রক্ষায় পাল্টা সেনা মোতায়েন করেছে। যদিও কাবুল সরকার শুরু থেকেই তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন