অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্য ও জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান খরচের প্রতিবাদে ফ্রান্সে শুরু হওয়া বিক্ষোভ এখন মারাত্মক দাঙ্গায় রূপ নিয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের সঙ্গে সাধারণ নাগরিকদের বড় একটি অংশ যুক্ত হওয়ায় সংকট নতুন মোড় নেয়। দেশজুড়ে ব্যাপক সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুই হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে ছয় শতাধিক পুলিশ সদস্য, জেন্ডারমেরি বাহিনীর সদস্য ও অগ্নিনির্বাপণকর্মী আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছেন দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বার্তায় তিনি জানান, আহতের এই হিসাব এখনও চূড়ান্ত নয় এবং সহিংসতায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে আইনি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। দেশটিতে কয়েক শ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফ্রান্স এখন স্মরণকালের অন্যতম তীব্র সামাজিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখোমুখি।
কর্মকর্তাদের হিসাব অনুযায়ী, শনিবার দুপুরের আগেই দেশটির প্রায় ১১০টি স্থানে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে রাজধানী প্যারিসসহ লিওঁ, নঁত ও রেনের মতো প্রধান শহরগুলোতে বিশাল মিছিল বের হয়। গত মাসে শুরু হওয়া শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন ইতোমধ্যে শত শত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে পড়েছে। প্রায় এক দশক আগে জ্বালানির উচ্চমূল্যের বিরুদ্ধে ফ্রান্সে গড়ে ওঠা আলোচিত ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকেও এবার রাজপথে নামার ডাক দেওয়া হয়েছিল।
দেশটির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর মার্সেইয়ে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। সেখানে বিক্ষোভকারীদের একটি দল স্থানীয় পুলিশ স্টেশনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা মার্সেই সিটি হলের ভেতরে ঢুকে পড়ে এবং ফরাসি প্রজাতন্ত্রের ঐতিহাসিক প্রতীক মারিয়ানের একটি আবক্ষ মূর্তি ভেঙে গুড়িয়ে দেয়। পরবর্তীতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তাদের সিটি হল থেকে বের করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
লিওঁ শহরেও তীব্র ধ্বংসযজ্ঞ চালায় দাঙ্গাকারীরা। কালো পোশাক, মুখোশ ও বিশেষ সুরক্ষাচশমা পরা একদল ব্যক্তি সেখানকার একটি পর্যটন তথ্যকেন্দ্রে জোরপূর্বক ঢুকে আগুন ধরিয়ে দেয়। রাজধানী প্যারিসের কেন্দ্রীয় প্লাস দ্য লা রিপাবলিক চত্বরে কয়েক শ উগ্র বিক্ষোভকারীর সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সরাসরি সংঘর্ষ বাঁধে। কাঁদানে গ্যাস ছুড়ে ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টার মধ্যেই সাধারণ মানুষের একটি অংশ শান্তিপূর্ণ মিছিলের চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এমন এক চরম অচলাবস্থার মাঝেই ফ্রান্স সরকার জাতীয় সংসদে ব্যয় সংকোচনমূলক একটি বাজেট পাসের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এর ওপর আগামী বছর দেশটিতে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার রাজনৈতিক চাপ রয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের কিছু দাবিকে যৌক্তিক বলে মেনে নেওয়া হলেও রাজপথের এই চরম ‘নগর সহিংসতার’ তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে। এই বিশৃঙ্খলা উসকে দেওয়ার পেছনে বামপন্থী রাজনৈতিক দল ‘ফ্রান্স আনবোড’-কে দায়ী করেছে প্রশাসন, যদিও দলটি শুরু থেকেই এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে আসছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন