রবিবার, ১৮ অক্টোবর, ২০২৬,

রুশ তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা শুল্ক কার্যকরে সময় নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৪:২৮ পিএম

রুশ তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতা শুল্ক কার্যকরে সময় নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ছবি: দিনাজপুর টিভি গ্রাফিক্স

রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি এক দিনে বন্ধ করে বিকল্প উৎসে পুরোপুরি সরে যাওয়া ভারতের জন্য বাস্তবসম্মত নয় বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত নিজেদের উদ্যোগে জ্বালানি আমদানির উৎসে বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা চালালেও দেশটির বিশাল অভ্যন্তরীণ চাহিদার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এখনও রাশিয়ার সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

উজবেকিস্তান ও ভারত সফরে যাওয়ার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই কৌশলগত বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন। তিনি জানান, রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞা এবং মস্কোর কাছ থেকে জ্বালানি কেনা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের প্রভাব গভীরভাবে পর্যালোচনার জন্য ৬০ দিন সময় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

রুবিওর ভাষ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপগুলো কেবল রাশিয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং ভারতসহ আরও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দেশের ওপর শুল্ক আরোপের মতো স্পর্শকাতর বিষয় এর সাথে সরাসরি যুক্ত।

এসব সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বাজারে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করতে চায় ওয়াশিংটন।

তিনি বলেন, ভারত স্বেচ্ছায় নিজেদের জ্বালানি উৎসে বিকল্প তৈরি করছে, তবে রাতারাতি সরবরাহ ব্যবস্থা বদলে ফেলা কঠিন। একই সঙ্গে তিনি ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র ও কৌশলগত অংশীদার হিসেবে আখ্যায়িত করেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সামরিক সংকট, সৌদি আরবে হুতিদের আক্রমণ এবং ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তা বিবেচনায় নিয়েই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করা হবে বলে জানান তিনি।

এর আগে গত শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় স্বার্থের কথা উল্লেখ করে রাশিয়া ও ইরান সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা আইনের আওতায় কিছু কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকরের ক্ষেত্রে বিশেষ ছাড় অনুমোদন করেন।

আইনটিতে রাশিয়ার কাছ থেকে তেল ও গ্যাস কেনা শীর্ষ পাঁচটি দেশের পণ্য আমদানিতে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের ক্ষমতা রাখা হয়েছিল, যার সরাসরি প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ভারত ও চীনের ওপর।

রুবিও স্পষ্ট করেন যে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার সংকট মাথায় রেখেই আইনটি তৈরির সময় পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনার এই অবকাশ রাখা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই সিদ্ধান্তের মাত্র কিছুদিন আগেই যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির মূল্য সাধারণের নাগালে রাখতে রাশিয়া থেকে ডিজেল আমদানির পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন ট্রাম্প।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর পশ্চিমা দেশগুলোর কঠোর বিধিনিষেধের মুখে মস্কো এশিয়ার বাজারে তুলনামূলক কম দামে তেল বিক্রি শুরু করলে আমদানি বহুগুণ বাড়ায় নয়াদিল্লি।

যুদ্ধের আগে ভারতের মোট জ্বালানি আমদানিতে রাশিয়ার অংশ ছিল মাত্র দুই শতাংশ বা তারও কম। কিন্তু পরবর্তীকালে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে কোনো কোনো মাসে দেশটির মোট চাহিদার ৪০ থেকে ৫০ শতাংশে পৌঁছায়। এমনকি গত মাসেও প্রতিদিন প্রায় ১৯ লাখ ব্যারেল রুশ তেল আমদানি করেছে দেশটি, যা তাদের মোট ব্যবহারের প্রায় ৩৫ শতাংশ।

এদিকে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে গত ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সুস্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরে জানিয়েছিল, ১৪০ কোটি জনসংখ্যার জ্বালানি নিশ্চিত করতে ভারত সব ধরনের আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে স্বাধীনভাবে বিভিন্ন উৎস থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখবে।