অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
পঞ্চগড় সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নে সরকারি সার ও বীজ ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন, স্বজনপ্রীতি ও ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। যাচাই-বাছাইয়ে নানা অসংগতি শনাক্ত হওয়ার পরও বিতর্কিত তিন আবেদনকারীর নাম কৃষি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও ব্যবসায়ী মহলে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অমরখানা ইউনিয়নে ডিলার নিয়োগের লক্ষ্যে জমা পড়া মোট ১৬ জন আবেদনকারীর তথ্য সরেজমিন তদন্ত করে জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বাধীন সার ও বীজ মনিটরিং কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদনে একাধিক প্রার্থীর বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ত্রুটি ও অসংগতি উল্লেখ করা হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি। সব শর্ত পূরণকারী প্রকৃত যোগ্য আবেদনকারীকে বাদ দিয়ে বিতর্কিত তিনটি প্রতিষ্ঠানের নাম চূড়ান্ত সুপারিশের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সুপারিশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নীতিমালার স্পষ্ট শর্তভঙ্গের সুনির্দিষ্ট বিবরণ পাওয়া গেছে। তালিকায় থাকা মেসার্স লিয়ন এন্টারপ্রাইজের বিরুদ্ধে একই পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তি ভিন্ন নামে আবেদন করার অভিযোগ উঠেছে। সরকারি নীতিমালায় এক পরিবার থেকে একাধিক ডিলারশিপের সুযোগ না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারীর পরিবারের তিনটি আবেদনের বিপরীতে মাত্র একটি গোডাউন প্রদর্শন করা হয়।

অপর সুপারিশপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান মেসার্স শাহজাহান খানের স্বত্বাধিকারী অমরখানা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা বা ভোটার নন। ডিলার নিয়োগের আবশ্যিক শর্ত সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের ভোটার হওয়া সত্ত্বেও তিনি পঞ্চগড় পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের নিবন্ধিত ভোটার হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন।
মেসার্স আসিক ট্রেডার্স নামের তৃতীয় প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে নিজস্ব কোনো বৈধ সার সংরক্ষণাগার বা গোডাউন নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। পৈতৃক জমিতে একটি সাধারণ অবকাঠামো দেখানো হলেও সেই জমির কোনো বণ্টননামা বা বৈধ মালিকানার কাগজপত্র দাখিল করা হয়নি।
বিপরীতে ডিলারশিপ নীতিমালার সব শর্ত শতভাগ পূরণ করেও বাদ পড়ার অভিযোগ তুলেছেন মেসার্স তিন বোন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী ছোলায়মান আলী।
ব্যবসায়ী ছোলায়মান আলীর দাবি, নিজস্ব গোডাউন, জমির নামজারি ও হালনাগাদ কাগজপত্র, ব্যাংকের আর্থিক সচ্ছলতা এবং অমরখানা ইউনিয়নের স্থায়ী ভোটার সংক্রান্ত সব সনদপত্র জমা দেওয়া সত্ত্বেও তার নাম রহস্যজনকভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। মূল্যায়নের কোনো স্বচ্ছ তালিকা বা পয়েন্টভিত্তিক ফলাফল প্রকাশ না করায় পুরো বাছাই প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।
জেলা মনিটরিং কমিটি তদন্ত প্রতিবেদনের লিখিত মন্তব্য উপেক্ষা করে কীভাবে এই তিন বিতর্কিত প্রার্থীর নাম মন্ত্রণালয়ে পাঠাল, তা নিয়ে স্থানীয় কৃষক সংগঠন ও সচেতন মহলের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
এই অনিয়মের প্রতিকার এবং স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসনের কাছে ৫-দফা দাবি পেশ করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত আবেদনকারী ও স্থানীয়রা। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অমরখানা ইউনিয়নের ১৬ জন আবেদনকারীর তদন্ত প্রতিবেদন ও প্রাথমিক মন্তব্য কলাম পুনরায় পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই করা, অভিযুক্ত তিন প্রতিষ্ঠানের ভোটার তালিকা ও গোডাউনসংক্রান্ত অভিযোগ নীতিমালার আলোকে পুনঃপরীক্ষা করা, মেসার্স তিন বোন ট্রেডার্সের নাম বাদ পড়ার সুনির্দিষ্ট কারণ প্রকাশপূর্বক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা, তথ্য গোপনের সঙ্গে জড়িত দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সব আবেদনকারীর ক্ষেত্রে সমমানদণ্ডে স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করা।
প্রান্তিক কৃষকের হাতে সময়মতো সরকারি মূল্যে কৃষি উপকরণ পৌঁছে দিতে ডিলার নিয়োগ প্রক্রিয়ার এই বিতর্ক দ্রুত নিরসন হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন