অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৪:২৩ পিএম
সরকারকে সহযোগিতা করার পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে এসে এখন থেকে দেশের ১৮ কোটি সাধারণ মানুষকে সহযোগিতা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রোববার দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে এক মুক্ত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করেন।
আমার বাংলাদেশ পার্টির উদ্যোগে ‘জুলাই সনদের এক বছর: প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামামি’ শীর্ষক এই আলোচনার আয়োজন করা হয়। দলের চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুর সভাপতিত্বে এতে জাতীয় নাগরিক পার্টিসহ ১১ দলীয় ঐক্যের শীর্ষ নেতারা বক্তব্য দেন।
ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেন, বর্তমান সরকার বিরোধী দলের সহযোগিতা গ্রহণ করার মতো রাজনৈতিক যোগ্যতা প্রদর্শনে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিরোধী দল হিসেবে তারা শুরু থেকেই সরকারের পতন চাননি, বরং তাদের সফলতা প্রত্যাশা করেছিলেন। সাম্প্রতিক তীব্র লোডশেডিং সংকটের সময় সংসদে নোটিশ দিয়ে দলীয় কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলের মাধ্যমে মন্ত্রণালয়কে সরাসরি সহায়তা দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে অতীতের আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতি প্রকাশ পাওয়ার ভয়ে সরকার সেই প্রস্তাব গ্রহণ করার সাহস দেখায়নি বলে অভিযোগ তোলেন তিনি।
পাঁচ আগস্ট পরবর্তী রাজনৈতিক রূপান্তরের দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত আমির বলেন, ওই পরিবর্তনের আগে বিএনপি তাদের মতোই একটি নিপীড়িত দল ছিল। কিন্তু ক্ষমতা গ্রহণের পর তারা নিজেদের অতীত সংগ্রাম ভুলে গেছে।
নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে আয়োজনের বিষয়ে ঐকমত্য থাকলেও শপথ গ্রহণের ক্ষেত্রে ভিন্নতা তৈরি হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুসারে একই দিনে দুটি শপথ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও বিরোধী দল উভয় শপথ নিলেও সরকারি দল কেবল সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করে এবং সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া থেকে বিরত থাকে।
বিরোধী দলের রাজনৈতিক তৎপরতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পাঁচ বছর দেশ পরিচালনার পাশাপাশি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জনগণ যে রায় দিয়েছিল, সরকার তা অবমূল্যায়ন করেছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে হস্তক্ষেপের অভিযোগ এনে তিনি সরকারি কর্ম কমিশনের উদাহরণ দেন। তিনি দাবি করেন, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের সদস্যদের ডেকে পদত্যাগের জন্য চাপ প্রয়োগ কোনো গণতান্ত্রিক রীতি হতে পারে না, যার মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে দলীয়করণের পথ প্রশস্ত করা হচ্ছে।
উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্যের অভিযোগ তুলে জামায়াত আমির জানান, কেবল সরকারি দলের সদস্যদের আসনেই বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পুরোপুরি বঞ্চিত রাখা হয়েছে। রংপুর অঞ্চলে সরকারি মহলের দেওয়া কিছু রাজনৈতিক বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের রাজকোষে প্রতিটি সাধারণ নাগরিকের ট্যাক্সের টাকা জমা হয়, তাই রাজনৈতিক আনুগত্যের ভিত্তিতে উন্নয়ন বরাদ্দে বৈষম্য করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের মূল আকাঙ্ক্ষা আমূল পরিবর্তনের ছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিরোধী দলের ৮৯ জন সংসদ সদস্য কোনো প্রলোভনের কাছে নতি স্বীকার না করে ১৮ কোটি মানুষের অধিকারের পাহারাদার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন