অক্টোবর ১৮, ২০২৬, ০৯:৪১ পিএম
কুমিল্লার লাকসামে নিখোঁজ হওয়ার ১০ দিন পর কাউসার হোসেন (২৩) নামের এক অটোরিকশাচালকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (১৮ অক্টোবর) সকালে উপজেলার বাকই ইউনিয়নের তারাপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেত থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশ থেকে বস্তাবন্দী অবস্থায় বেশ কিছু সিগারেটও উদ্ধার করেছে পুলিশ সদস্যরা।
নিহত কাউসার হোসেন তারাপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে। চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন পঞ্চম। পেশায় তিনি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালাতেন।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ৮ অক্টোবর বাড়ি থেকে বের হয়ে কাউসার আর ফিরে আসেননি। এরপর পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন এবং তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা চালান। কিন্তু কোথাও তাঁর কোনো সন্ধান মেলেনি।
রোববার সকালে তারাপুর গ্রামের একটি ধানক্ষেতে তাঁর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন লাকসাম থানা পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামরুন্নাহার লায়লী ও উপপরিদর্শক হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি নিহত কাউসারের বাড়ির পাশের একটি দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছিল। ধানক্ষেতে মরদেহের পাশে বস্তাবন্দী অবস্থায় পাওয়া সিগারেটের সঙ্গে ওই চুরির ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সন্দেহ ও নানা গুঞ্জন দেখা দিয়েছে।
লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামরুন্নাহার লায়লী জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ তৎপর রয়েছে।
এর আগে গত ৮ অক্টোবর কুমিল্লার লালমাই উপজেলার জগতপুর এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে জান্নাতুল তাজমিন (১৫) নামের এক সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করেছিল পুলিশ। মাত্র ১০ দিনের ব্যবধানে জেলায় ধানক্ষেত থেকে আরও একটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা ঘটল।
এদিকে ঘটনাস্থলে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সৌরভ হোসেন নামের এক সাংবাদিকের মুঠোফোন কেড়ে নেওয়া এবং ধারণ করা ভিডিও চিত্র মুছে ফেলার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী কামরুন্নাহার লায়লীর বিরুদ্ধে। ওই সাংবাদিকের অভিযোগ, এ সময় তাঁর সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণও করা হয়।
অভিযোগ প্রসঙ্গে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুন্নাহার লায়লী জানান, সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক গোপনে তাঁর ভিডিও ধারণ করছিলেন। এ কারণে তিনি মুঠোফোনটি কিছু সময়ের জন্য নিয়েছিলেন এবং পরে তা ফেরত দিয়ে ধারণ করা ভিডিও মুছে ফেলার অনুরোধ জানান।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন