অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৭:৪৪ পিএম
মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষ একই ভূখণ্ডে বসবাস করেন এবং কাউকে আলাদা করে দেখার কোনো সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। তিনি বলেছেন, সবাই মিলে একটি একক ভৌগোলিক মানচিত্রের মধ্যে সুসংহত থাকাই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে লক্ষ্মীপুরের চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার মান্দারী বাজারের মালিবাড়ি পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
সমাজে পারস্পরিক শান্তি বজায় রেখে বসবাস করাই সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন পানিসম্পদ মন্ত্রী।
তিনি বলেন, সমাজে মানুষের সম্মান ও মানবিক মর্যাদা সুরক্ষিত না থাকলে কোনো কিছুরই যথার্থ মূল্য থাকে না। দেশের মানুষকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে অতীতে দীর্ঘ লড়াই, সংগ্রাম ও আত্মত্যাগ করতে হয়েছে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, এই ভূখণ্ডে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান, আদিবাসী, মারমা, মগ ও সাঁওতালসহ নানা ভাষা ও সংস্কৃতির জনগোষ্ঠী সৌহার্দ্য নিয়ে বাস করছে। তাদের মধ্যে কৃত্রিম কোনো ভেদাভেদ নেই। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তাঁর জাতীয়তাবাদী রাজনৈতিক দর্শনের মধ্য দিয়ে দেশে এই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও জাতীয় ঐক্যের স্থায়ী ভিত্তি গড়ে তুলেছিলেন।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি আশ্বস্ত করে বলেন, হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের প্রতি দেশের সব মানুষের গভীর সম্মান ও আন্তরিক শ্রদ্ধা রয়েছে। সমাজে পারস্পরিক শান্তি অক্ষুণ্ণ রেখে নাগরিকেরা যুগ যুগ ধরে একত্রে পথ চলছেন। যেকোনো সংকট বা বিপদ-আপদে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বর্তমান বিএনপি সরকারকে সবসময় অকৃত্রিম বন্ধু হিসেবে পাশে পাবেন।
শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল তাৎপর্য অশুভ শক্তির বিনাশ এবং মানবকল্যাণের চিরন্তন বার্তা বহন করে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। এই ধর্মীয় আনন্দের মধ্য দিয়ে পারস্পরিক সম্প্রীতি, সামাজিক সৌহার্দ্য এবং মানবিক মূল্যবোধের যৌথ চর্চা আরও সংহত হয়।
বাংলাদেশ রাষ্ট্র সব নাগরিককে স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালনের পূর্ণ সাংবিধানিক নিশ্চয়তা দেয় এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে এ চর্চাকে উৎসাহিত করে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ধারণ করে আবহমানকাল থেকেই এই দেশের মানুষ নিজস্ব ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও উৎসব কোনো ধরনের বাধা ছাড়া স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করে আসছে। বিএনপি অতীতেও হিন্দু সম্প্রদায়ের অধিকার রক্ষায় পাশে ছিল, বর্তমানেও পূর্ণ আন্তরিকতায় রয়েছে এবং আগামী দিনেও একইভাবে তাদের পাশে থাকবে। দেশের স্থায়ী শান্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং সব নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা সুরক্ষায় সবাইকে সুদৃঢ়ভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে মন্ত্রীর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি শংকর মজুমদার ও সাধারণ সম্পাদক মিলন মন্ডল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি স্বপন চন্দ্র নাথ ও সাধারণ সম্পাদক শিমুল সাহা, এবং জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সহসভাপতি মানিক সাহা। এ ছাড়া চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন