অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর ঘোষণার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মুখ সড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেনের অনুসারী ও সমর্থকরা। সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলন শেষে এ বিক্ষোভ শুরু হয়।
তোপখানা রোডসংলগ্ন সড়কে অবস্থান নেন সমর্থকেরা।
সংবাদ সম্মেলনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে ইশরাক হোসেন বের হলে তাঁর বিপুলসংখ্যক সমর্থক মূল সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় নেতাকর্মীদের কড়া বেষ্টনীর মধ্যে একটি খোলা জিপে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় ঢাকা-৬ আসনের এই সংসদ সদস্যকে।
বিক্ষোভের কারণে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনের ব্যস্ত সড়কে কিছু সময়ের জন্য গণপরিবহন ও দূরপাল্লার সব ধরনের যানবাহন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে সচিবালয়, পল্টন ও তোপখানা রোডসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ যাত্রীরা।
মাদকবিরোধী অভিযানের ভিডিও ফাঁসের পর এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তিনি।
এর আগে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ইশরাক হোসেন দাবি করেন, সাম্প্রতিক মাদকবিরোধী অভিযানকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের খবর প্রকাশের প্রেক্ষাপটে দল ও সরকারের ভাবমূর্তি সমুন্নত রাখতেই তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
গত শনিবার বিকেলে রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেলস্টেশনসংলগ্ন দয়াগঞ্জ গুন্টিঘর রেলগেট এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে যান ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইশরাক হোসেন।
সামাজিক মাধ্যমে নিজেই ছড়িয়েছিলেন সেই অভিযানের দৃশ্য।
তাঁর ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে প্রকাশিত একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, গাড়ি থেকে নেমেই আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে চিৎকার করে তিনি বলছেন, ‘এই ধর ধর ধর...।’ ঠিক সে সময় তাঁর পাশ থেকে একজনকে উচ্চৈঃস্বরে বলতে শোনা যায়, ‘একেবারে গুলি করে দেব।’
ভিডিওতে তাঁর সাথে থাকা দেহরক্ষীদের কয়েকজনকে লক্ষ্য করে দৌড়াতে দেখা যায় এবং তাদের একজন এক তরুণকে লাথি মারেন। ওই সময় উপস্থিত কয়েকজনকে আতঙ্কিত হয়ে আকুতি জানিয়ে বলতে শোনা যায়, ‘স্যার, আমি কিছু করিনি। আমি গরিব মানুষ, স্যার।’
পরবর্তীতে প্রকাশিত অপর একটি ভিডিওতে আটক ব্যক্তিদের পুলিশের হাতে সোপর্দ করতে দেখা যায়।
অভিযানের সময় সংসদ সদস্যের সঙ্গে সরকারিভাবে নিয়োজিত দেহরক্ষীর পাশাপাশি তাঁর নিজস্ব দুই দেহরক্ষী তোফাজ্জল হোসেন ও লাভলু উপস্থিত ছিলেন। দৃশ্যমান নথিতে দেখা গেছে, ব্যক্তিগতভাবে রাখা এই দুই দেহরক্ষীর হাতেও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন