শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

মন্দিরে নিরাপত্তা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ রিজভীর

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১১:৪৬ পিএম

মন্দিরে নিরাপত্তা দিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ রিজভীর

উৎসব মানুষের মধ্যকার সব সামাজিক বিভাজন দূর করে এক অভিন্ন ভিত্তির ওপর দাঁড়ানোর শক্তি জোগায় বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। তিনি উল্লেখ করেন, আবহমানকাল ধরে এই ভূখণ্ডে বসবাসকারী নানা ধর্ম ও বর্ণের মানুষ মিলেমিশে একসঙ্গে প্রতিটি আনন্দোৎসব উদযাপন করে আসছেন।

শুক্রবার রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত ঐতিহাসিক রমনা কালীমন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ঐতিহ্যবাহী এই রমনা কালীমন্দিরে অত্যন্ত ভাবগাম্ভীর্যপূর্ণ পরিবেশে দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা চলছে। ভিন্ন ধর্মের অনুসারী হওয়া সত্ত্বেও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা আন্তরিকতার সাথে তাঁদের এই ধর্মীয় উৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার অনন্য সুযোগ করে দিচ্ছেন।

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে হাজার বছর ধরে এ দেশের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ একে অপরের ধর্মীয় ও সামাজিক আচার-অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সম্প্রীতির বন্ধন টিকিয়ে রেখেছে। অথচ অনেকেই নাগরিকদের এই গণতান্ত্রিক অধিকার ও মূল্যবোধ স্বীকার করতে চান না। শারদীয় দুর্গোৎসব ঘিরে নানা অপপ্রচার চালানো হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন। তিনি জানান, দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপের সার্বিক নিরাপত্তা তদারকি করতে দলীয় নেতাকর্মীদের সাংগঠনিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা কোনো ধরনের দ্বিধা বা শঙ্কা ছাড়া নিরাপদে উৎসব সম্পন্ন করতে পারেন। সারাদেশে এই নির্দেশনা কঠোরভাবে কার্যকর থাকবে।

মণ্ডপগুলোর সরকারি সহায়তা বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব জানান, আগে প্রতিটি মন্দিরে ৫০০ কেজি চাল বরাদ্দ ছিল, যা বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। একই সাথে প্রতিটি মন্দিরকে আট হাজার টাকা করে আর্থিক বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ধর্মীয় পুরোহিতদের জন্য সরকার অতিরিক্ত তিন হাজার টাকা করে উৎসব ভাতা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছে।

তিনি বলেন, সমাজের সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একসাথে নিয়ে দেশ এগিয়ে নেওয়ার এই অন্তর্ভুক্তিমূলক দৃষ্টিভঙ্গি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এবং এটিই বিএনপির মূল রাজনৈতিক চেতনা। সেই ইতিবাচক প্রেরণা ধারণ করেই বর্তমান সরকার দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এই রাষ্ট্রে হিন্দু ও বৌদ্ধসহ সব ধর্মাবলম্বী নাগরিক সমমর্যাদা এবং সমঅধিকার নিয়ে বসবাস করবেন।

পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে শ্রী শ্রী আনন্দময়ী আশ্রমের সভাপতি অপর্ণা রায় দাস ও সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ সনাতন সম্প্রদায়ের বিপুল সংখ্যক ভক্ত ও দর্শনার্থী উপস্থিত ছিলেন।