শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার কারিগরদের পূজার বোনাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১১:২৪ পিএম

নগরী পরিচ্ছন্ন রাখার কারিগরদের পূজার বোনাস দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

প্রতিদিন ভোরে সাধারণ নগরবাসী যখন ঘুম ভেঙে দিনের স্বাভাবিক কর্মব্যস্ততা শুরু করেন, তার বহু আগেই শহর পরিচ্ছন্ন করার কাজে নেমে পড়েন হরিজন সম্প্রদায়ের মেহনতি মানুষেরা। তাদের নিরবচ্ছিন্ন ঘাম ও শ্রমে পথঘাট চলাচলের উপযোগী থাকে এবং দূর হয় জমে থাকা যাবতীয় আবর্জনা। অথচ নাগরিক জীবনকে সচল ও পরিচ্ছন্ন রাখার এই মূল কারিগরদের অবদানের বিষয়টি প্রায়ই সমাজে অবহেলিত থেকে যায়।

শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ এই প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে ছড়িয়ে দিতে এগিয়ে এসেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হরিজন সম্প্রদায়ের প্রায় তিনশ জনের প্রত্যেককে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা ও বিশেষ পূজার বোনাস প্রদান করেছেন তিনি।

শুক্রবার রাত ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের হাতে সরাসরি এই অনুদান তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু উল্লেখ করেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা যেন সমাজের সবাই সমান আনন্দ ও সুন্দর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উদযাপন করতে পারেন, সেই আন্তরিক তাগিদ থেকেই এই আর্থিক প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

তিনি পূর্ববর্তী প্রতিশ্রুতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, দুই মাস আগেও তিনি এই সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মতবিনিময় করেছিলেন। সে সময় তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন যে যেকোনো অভাব-অনটনে তিনি পাশে থাকবেন। গত পূজায় তাদের শাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছিল এবং এবার নগদ বোনাস দেওয়ার কথা ছিল। সেই পূর্বনির্ধারিত প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতেই এই নগদ সহায়তা বিতরণ করা হলো।

শহরের সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় হরিজন সম্প্রদায়ের অবদানের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই এই পুরো শহরকে বাসযোগ্য ও আবর্জনামুক্ত রাখেন। প্রতিদিন যে পরিপাটি পরিবেশ চোখে পড়ে, তার পেছনে রয়েছে তাদের নিরলস কায়িক শ্রম। অথচ তাদের বর্তমান বেতনের কাঠামো অত্যন্ত অপ্রতুল। ভবিষ্যতে তাদের সরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক বেতন যেন সম্মানজনক হারে বৃদ্ধি পায়, সে বিষয়ে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

তিনি আরো জানান, হরিজন সম্প্রদায়ের স্থায়ী বসবাসের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন আবাসিক ভবন নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। পরিবারের কোনো সদস্যের জটিল রোগব্যাধি বা অন্য যেকোনো জরুরি পারিবারিক সংকটে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের পূর্ণ সুযোগ ও অধিকার সুরক্ষার ওপর জোর দিয়ে তিনি সতর্ক করেন যে অন্য কেউ যেন তাদের পেশাগত সুযোগ ছিনিয়ে নিতে না পারে, প্রশাসন সে বিষয়ে সজাগ দৃষ্টি রাখবে।

প্রতিমন্ত্রী তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, যেসকল প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয় তা বাস্তবায়নে তারা অবিচল। তিনি সবাইকে একসাথে মিলে একটি পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ টাঙ্গাইল গড়ার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের নিজ নিজ দায়িত্ব সততার সাথে পালনের অনুরোধ জানান এবং যেকোনো মূল্যে মাদক থেকে দূরে থাকার কড়া পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মাদকাসক্তি মানুষের জীবনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যায় এবং পুরো পরিবারকে নিঃস্ব করে তোলে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক আবু সাঈদ, পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি) মো. সেলিম মিঞা এবং টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়া। এছাড়া জেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব মাহমুদুল হক সানু, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুর রহমান খান শফিক, জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক দুর্জয় হোড় শুভসহ দলীয় অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ও হরিজন সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।