শনিবার, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬,

জবিতে শনিবারও গরুভোজের আয়োজন: থাকছে কাওয়ালি সন্ধ্যা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১৬, ২০২৬, ১১:১৫ পিএম

জবিতে শনিবারও গরুভোজের আয়োজন: থাকছে কাওয়ালি সন্ধ্যা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে দ্বিতীয় দিনের মতো আবারও গরুভোজের উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। শনিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই পশু জবাই করা হবে এবং বিকেলে কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সামনে শিক্ষার্থীদের মাঝে তেহারি বিতরণ করার কথা রয়েছে। একই সাথে ক্যাম্পাসের সাংস্কৃতিক আয়োজনে থাকছে সান্ধ্যকালীন কাওয়ালি মাহফিল।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার সকাল থেকে আয়োজন শুরু হবে। বিকেল সাড়ে তিনটায় শিক্ষার্থীদের মাঝে গরুর মাংসের তেহারি বিতরণ করা হবে এবং সন্ধ্যার পর থাকছে বিশেষ কাওয়ালি পরিবেশনা। মূল খাবারের পাশাপাশি ক্যাম্পাসের ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য খাসির মাংসের বিশেষ বিকল্প রাখার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, এই যৌথ ভোজে অংশ নিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪০ টাকা করে নিবন্ধন ফি সংগ্রহ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে একটি গরু কেনা হয়েছে। পাশাপাশি খাসি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। কোনো কারণে খাসি না পাওয়া গেলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বী শিক্ষার্থীদের জন্য বাইরে থেকে প্রস্তুত করা খাসির কাচ্চি বিরিয়ানি সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিসের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদস্যসচিব ওবায়দুল ইসলাম জানান, তারা ক্যাম্পাসের সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখতে চান। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পশু জবাই সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানাতেই এই গণভোজের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছে। অন্য ধর্মের শিক্ষার্থীদের খাদ্যভ্যাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাদের জন্য খাসির ব্যবস্থা করা হচ্ছে। তিনি ক্যাম্পাসের সব শিক্ষার্থীকে এই আয়োজনে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অবস্থানের বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আজম খান জানান, প্রথম দিনের আয়োজনে প্রশাসনের আপত্তি থাকলেও পরিবেশ শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল ছিল। দ্বিতীয় দিনের আয়োজনের ক্ষেত্রেও প্রথমে অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছিল। পরবর্তীতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা মামুনুর রশিদ উপাচার্যের সাথে টেলিফোনে যোগাযোগ করে অনুরোধ জানালে কয়েকটি শর্ত সাপেক্ষে তাদের এই অনুমতি দেওয়া হয়।

প্রক্টর আরো স্পষ্ট করেন যে শুক্রবার ঠিক যে স্থানে খাবারের ব্যবস্থা সম্পন্ন হয়েছিল, শনিবারও নির্ধারিত সেই একই স্থানে পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে, যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা প্রশাসনিক ব্যাঘাত না ঘটে।

এর আগে শুক্রবারও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে ক্যাম্পাসে গরু ও খাসির যৌথ ভোজ অনুষ্ঠিত হয়। মূলত গত ১৪ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর দপ্তর থেকে ক্যাম্পাসের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার কারণ দেখিয়ে যেকোনো ধরনের পশু জবাই নিষিদ্ধ করে একটি আনুষ্ঠানিক নোটিশ জারি করা হয়েছিল। ওই নির্দেশনার পর সাধারণ শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রশাসনের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শুক্রবার প্রথম দফায় এই গরুভোজের কর্মসূচি পালন করা হয়।