অক্টোবর ১৯, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম
প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জনবান্ধব প্রশাসনিক কার্যক্রম নিশ্চিত করতে দেশের সব ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের নাগরিক সেবাকে রাষ্ট্রীয় সমন্বিত পোর্টাল মাইগভ প্ল্যাটফর্মের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদপ্তরের উদ্যোগে আনুষ্ঠানিকভাবে এই ডিজিটাল সেবার উদ্বোধন করা হয়।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সার্বিক তত্ত্বাবধান এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অ্যাসপায়ার টু ইনোভেট (এটুআই) প্রোগ্রামের সরাসরি কারিগরি সহযোগিতায় উদ্যোগটি বাস্তবায়িত হয়েছে।
সশরীরে কার্যালয়ে যাওয়ার দিন শেষ।
আগের প্রচলিত ব্যবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সনদ বা সেবা পেতে নাগরিকদের সরাসরি সংশ্লিষ্ট ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হতে হতো। ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে আবেদনপত্র পূরণ, সংযুক্ত কাগজপত্র জমা, নির্ধারিত সরকারি ফি পরিশোধ এবং সনদ সংগ্রহের জন্য বারবার বিভিন্ন দপ্তরে যাতায়াত করতে গিয়ে সময় ও অর্থের অপচয়ের পাশাপাশি চরম দুর্ভোগের শিকার হতেন সাধারণ মানুষ।
ভোগান্তি কমিয়ে সেবা সহজলভ্য করতে প্রথমে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের দুটি সেবা নিয়ে পরীক্ষামূলক পাইলটিং শুরু হয়।
পাইলট প্রকল্প সফল হওয়ার পর দেশের বাকি ১৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের সেবা ডিজিটালাইজেশন করার সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এর অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের মার্চ মাসে তিনটি সেবা বিশ্লেষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ১৪টি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অংশ নেন। ওই কর্মশালাগুলোতে মোট ৬৩ ধরনের সেবাকে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বিশ্লেষণ করে ডিজিটাইজেশনের লক্ষ্যে ১৯টি মৌলিক সেবা আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়।
সেবাগুলোর বাস্তবায়নে তৈরি করা হয় ১৮৫টি স্বতন্ত্র অনলাইন আবেদন ফর্ম।
পরবর্তী ধাপে ২০২৬ সালের জুন ও জুলাই মাসে সাতটি অঞ্চলভিত্তিক ভ্যালিডেশন কর্মশালার আয়োজন করা হয়। সেখানে অনলাইন আবেদন ফর্ম, নির্ধারিত ফি কাঠামো, অভ্যন্তরীণ কার্যপ্রবাহ ও চূড়ান্ত সনদপত্রের টেমপ্লেট যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় দক্ষতা বাড়াতে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে বিশেষ কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। এতে ক্যান্টনমেন্ট এক্সিকিউটিভ অফিসারসহ বিভিন্ন বোর্ডের মোট ১৪০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
বর্তমানে ১৯টি মৌলিক সেবার ১৮৫টি অনলাইন আবেদন ফর্ম মাইগভ প্ল্যাটফর্মে উন্মুক্ত রয়েছে।
এর মাধ্যমে নাগরিকেরা যেকোনো প্রান্ত থেকে ঘরে বসেই অনলাইনে আবেদন দাখিল, প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সরাসরি ফি পরিশোধ এবং তাৎক্ষণিক কিউআর কোড সংবলিত নির্ভরযোগ্য ডিজিটাল সনদ গ্রহণ করতে পারছেন। একই সঙ্গে সেবাপ্রার্থীরা নিজেদের জমা দেওয়া আবেদনের সার্বিক অগ্রগতি ট্র্যাক করতে এবং সেবা সংক্রান্ত মতামত জানাতে পারছেন।
ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড কর্তৃপক্ষও একই প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে যাবতীয় আবেদনপত্র গ্রহণ, নথিপত্র যাচাই, প্রশাসনিক তদন্ত পরিচালনা এবং দ্রুততম সময়ে ফাইল চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি করতে পারবে। এর ফলে সরকারি দপ্তরে গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি কাগুজে ফাইলের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাবে এবং সেবা ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন