জুন ১৯, ২০২৬, ১২:২৫ পিএম
ঝিনাইদহের মহেশপুরে যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় রিনা খাতুন নামের এক গৃহবধূকে শারীরিক নির্যাতন ও তালাক দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পাষণ্ড স্বামীর বিরুদ্ধে। উপজেলার কাজিরবেড় ইউনিয়নের নতুন কোলা গ্রামে এই অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। ভুক্তভোগী ওই গৃহবধূ বর্তমানে নিজের বাবার বাড়িতে নবজাতকদের নিয়ে চরম অসহায় অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন।যমজ কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় স্ত্রীকে এভাবে নির্মমভাবে ঘরছাড়া করার ঘটনায় পুরো এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে যে প্রায় দুই বছর আগে নতুন কোলা গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলামের সঙ্গে রিনা খাতুনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। বিয়ের পর প্রথম দিনগুলো স্বাভাবিকভাবে কাটলেও বিপত্তি ঘটে রিনা অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর। তাঁর গর্ভধারণের ছয় মাস পূর্ণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাফি করা হয় এবং গর্ভে যমজ কন্যাসন্তান থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়। এই খবর জানার পর থেকেই স্বামী রাকিবুল ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা রিনার ওপর মারাত্মক মানসিক ও শারীরিক নির্যাতন শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁকে জোরপূর্বক পুরাতন কোলা গ্রামে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং এরপর থেকে শ্বশুরবাড়ির কেউ তাঁর কোনো খোঁজ নেননি।
পরবর্তীতে বাবার বাড়িতেই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে দুটি ফুটফুটে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন রিনা খাতুন। বর্তমানে ওই শিশুদের বয়স দেড় মাস পার হয়ে গেলেও স্বামী কিংবা তাঁর পরিবারের কেউ সন্তানদের দেখতে আসেননি এবং ভরণপোষণের কোনো দায়িত্বও নেননি। উল্টো নবজাতকদের বিক্রি করে সেই টাকা দিয়ে কাবিননামার টাকা শোধ করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে ভুক্তভোগী রিনা জানিয়েছেন।
বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য নুহুসহ মাতব্বররা দুই দফায় সালিশ বৈঠকের আয়োজন করলেও স্বামীর পরিবার সন্তানদের মেনে নিতে সম্পূর্ণ অস্বীকৃতি জানায় এবং শেষ পর্যন্ত তালাকনামা পাঠায়। বর্তমানে ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও শ্বশুর পলাতক রয়েছেন এবং মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দ্রুত কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন