অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ১১:২২ পিএম
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী হজরত শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহির মাজারের দানবাক্স ও ঐতিহাসিক তিনটি ডেগ পঞ্চমবারের মতো খুলে গণনা সম্পন্ন হয়েছে। এবারের গণনায় নগদ ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ৪০৮ টাকা, এক ভরির বেশি সোনা, তিন ভরির বেশি রুপা এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা পাওয়া গেছে।
এছাড়া ভক্ত ও দর্শনার্থীদের পক্ষ থেকে মানত করা শতাধিক গরু ও ছাগলের আনুষ্ঠানিক হিসাব তুলে ধরা হয়।
টাকার স্তূপের মধ্য থেকে ব্যক্তিগত দোয়া ও নানা দাবি সংবলিত অসংখ্য চিঠিপত্রের পাশাপাশি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ নেতৃত্বের উদ্দেশে লেখা একটি ব্যতিক্রমী বেনামী রাজনৈতিক আবেদনপত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সিলেট জেলা প্রশাসক মো. আবদুল্লাহ আল মামুনের সরাসরি উপস্থিতিতে এই গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং মাজার পরিচালনা কমিটির সমন্বয়ে গঠিত যৌথ দল পুরো তদারকির দায়িত্ব পালন করে। গণনা শেষে বিকেলে জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে মোট অর্থমূল্যের হিসাব প্রকাশ করেন।
উদ্ধার হওয়া চিঠিপত্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি করেছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে লেখা বেনামী চিঠিটি।
তাতে কোনো নাম-ঠিকানা উল্লেখ না করে দলে কর্মী অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে উচ্চমাধ্যমিকে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ৫ এবং সাধারণ সদস্য হতে মাধ্যমিকে জিপিএ ২ দশমিক ৫ থাকার শিক্ষাগত যোগ্যতা নির্ধারণের আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি শিক্ষাজীবন শেষ হওয়ার পূর্বে বা অপ্রাপ্তবয়স্ক কোনো কিশোরকে যাতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে না জড়ানো হয়, সেই অনুরোধ জানিয়ে চিঠির শেষে ইংরেজিতে উদ্ধৃত করা হয়, আপনার মাধ্যমেই এই পরিবর্তনের সূচনা দেখতে চাই।
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা প্রথা ভেঙে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারে নতুন সিলগালাকৃত আধুনিক দানবাক্স স্থাপন করা হয়।
এরপর ২২ জুন প্রথম দফায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা উদ্ধার করা হয়।
পরবর্তীতে ১১ জুলাই দ্বিতীয় দফায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা, ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা এবং ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকাসহ পূর্ববর্তী চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকা সংগ্রহ করা হয়েছিল।
নতুন নীতিমালার আলোকে অর্জিত মোট দানের অর্থের ৩৫ শতাংশ মাজারের সার্বিক উন্নয়নকাজে সোনালী ব্যাংকের যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রাখা হয়। অবশিষ্ট ৬৫ শতাংশ অর্থ মাজারের দৈনন্দিন পরিচালনা ব্যয় এবং কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা নির্বাহে খরচ করা হয়ে থাকে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন