অক্টোবর ২৯, ২০২৬, ১০:০৩ এএম
ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গণনা প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি। দেশটির কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যমতে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি জোট পার্লামেন্টে ক্ষমতা হারানোর মুখে পড়েছে।
নেতানিয়াহুর জোট আটকে গেছে ৫৩ আসনে।
সরকার গঠনের জন্য ১২০ আসনের পার্লামেন্টে (নেসেট) অন্তত ৬১টি আসন প্রয়োজন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাসীন জোট পেতে পারে ৫৩টি আসন, আর তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। তবে এবার ফিলিস্তিনি আরব দলগুলো ঐতিহাসিক সাফল্য দেখিয়ে রেকর্ড ১৯টি আসন পেতে যাচ্ছে। ফলে দেশটিতে পরবর্তী সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলোর সমর্থনই মূল চাবিকাঠিতে পরিণত হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ৫০ লাখের বেশি ভোট গণনা করা হয়। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘোষিত আনুষ্ঠানিক তথ্য অনুযায়ী ৯০ দশমিক ২ শতাংশ ব্যালট গণনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে বিশেষ বা ডাবল এনভেলপ পদ্ধতির ভোট গণনা তখনো বাকি ছিল। এসব ভোটের মধ্যে রয়েছে দায়িত্বে থাকা সেনাসদস্য, হাসপাতালে থাকা রোগী, কারাবন্দি এবং নির্দিষ্ট নির্বাচনি কর্মকর্তাদের ভোট। এই ব্যালটগুলোর গণনায় আসনসংখ্যায় সামান্য পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রাপ্ত ফলাফলে নেতানিয়াহুর দল লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন পেয়ে পার্লামেন্টের একক বৃহত্তম দল হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রেখেছে। তার জোটের শরিকদের মধ্যে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, শাস এবং ওতজমা ইয়েহুদিত সাতটি করে এবং রিলিজিয়াস জায়নিস্ট পার্টি ছয়টি আসন পাওয়ার আভাস পেয়েছে।
অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের ভেতরে সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ২১টি আসন পেয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে। নাফতালি বেনেটের বিইয়াখাদ পাচ্ছে ১২টি আসন। এছাড়া ইয়ার গোলানের দ্য ডেমোক্র্যাটস আটটি এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু সাতটি আসনে এগিয়ে রয়েছে। ওফের উইন্টারের পিপল অব ইসরায়েল এবং ইয়োয়াজ হেন্ডেলের দ্য রিজার্ভিস্টস নামের দুটি দল ৩ দশমিক ২৫ শতাংশ ন্যূনতম ভোটের সীমা পার করতে না পারায় নেতানিয়াহুর সরকার গড়ার পথ কার্যত রুদ্ধ হয়ে গেছে।
ফলাফলের এই চিত্রে বিরোধী দল দ্য ডেমোক্র্যাটসের প্রধান ইয়ার গোলান আরব দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত বিকল্প সরকার গঠনের দাবি তুলেছেন। গোলানের মতে, আরব দলগুলোকে এক কাতারে আনলে বিরোধী শিবিরের আসন দাঁড়ায় ৬৫, যা নেতানিয়াহুর ৫৫টির চেয়ে স্পষ্ট ব্যবধানে বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লিখেছেন, ইসরায়েলি গণতন্ত্র এভাবেই কাজ করে এবং আরব ভোটারদের আলাদা করে দেখার বর্ণবাদী মানসিকতা বাদ দেওয়া উচিত।
তবে বিরোধী শিবিরের ভেতর সবাই এই প্রস্তাবে একমত নন। নাফতালি বেনেট ও আভিগদর লিবারম্যান অতীতেও আরব দলের সমর্থনের ওপর নির্ভরশীল সরকারের বিরোধিতা করেছিলেন। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের প্রেক্ষাপটের কারণে ইহুদি দলগুলোর একাংশের মধ্যে এ নিয়ে প্রবল আপত্তি রয়েছে।
পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করায় ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ রাজনৈতিক দলগুলোকে খোলামন নিয়ে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়েছেন। বুধবার এক বক্তব্যে তিনি বলেন, ইসরায়েলে আরেকটি নতুন নির্বাচন এড়াতে সব ধরনের রাজনৈতিক চেষ্টা চালাতে হবে। প্রেসিডেন্টের বাসভবনে দলগুলোর সাথে আনুষ্ঠানিক আলোচনার পর তিনি সরকার গঠনের প্রথম সুযোগ কার হাতে তুলে দেবেন, সেই সিদ্ধান্ত জানাবেন।
এদিকে জয়েন্ট লিস্টের চেয়ারম্যান ইউসেফ জাবারিন জানিয়েছেন, নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরাতে তারা ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত। আরেক প্রভাবশালী আরব নেতা আহমাদ তিবি এক রেডিও সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, বিরোধী দলগুলোর সাহস থাকলে তারা সরকার গঠনে সহযোগিতা দিতে হাত বাড়িয়ে রেখেছেন। ইসলামপন্থি দল রাআমের নেতা মানসুর আব্বাসও নিজেদের গ্রহণযোগ্য জোটসঙ্গী হিসেবে তুলে ধরতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
নেতানিয়াহু ও আইজেনকোটের মধ্যে জাতীয় ঐকমত্যের সরকার গঠনের সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, কারণ আইজেনকোট আগেই নেতানিয়াহুর সঙ্গে ক্ষমতা ভাগাভাগির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছেন। রাজনৈতিক দলগুলো যদি কোনো সমঝোতায় না পৌঁছায়, তবে ইসরায়েলকে আবারও একটি নতুন নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হবে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন