বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

এনআইডি সংশোধন করতে যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে

জাতীয় ডেস্ক

অক্টোবর ২২, ২০২৬, ১২:৩৮ পিএম

এনআইডি সংশোধন করতে যেসব প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে

NID

জাতীয় পরিচয়পত্র বা ভোটার আইডি কার্ডে নাম, জন্মস্থান, বাবা-মায়ের নাম, পেশা কিংবা ঠিকানায় কোনো ভুল থাকলে তা সংশোধনের নির্দিষ্ট সুযোগ রয়েছে। তবে তথ্যের ধরনভেদে প্রয়োজনীয় নথির তালিকাও ভিন্ন হয়। সঠিক নথি আগেই গোছানো থাকলে আবেদন সহজ হয়।

নামের বানান বা আংশিক সংশোধনের ক্ষেত্রে মাধ্যমিক, জুনিয়র স্কুল বা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার সনদ যেখানে যেটি প্রযোজ্য তা জমা দিতে হতে পারে। এর সাথে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং সন্তানের জন্মসনদ বা শিক্ষাসনদ থাকলে তা প্রমাণ হিসেবে কাজে লাগে। পাশাপাশি বিবাহিতদের ক্ষেত্রে কাবিননামা বা বিবাহ সনদ এবং স্বামী কিংবা স্ত্রীর জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপিও চাওয়া হতে পারে। পুরো নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে এসব দালিলিক প্রমাণের পাশাপাশি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সম্পাদিত হলফনামাও দরকার হতে পারে, যা নির্বাচন কমিশন প্রয়োজনে সরেজমিন তদন্ত করে দেখতে পারে।

বাবা অথবা মায়ের নামের বানান, পদবি কিংবা সম্পূর্ণ নাম সংশোধনের আবেদনে নিজের শিক্ষাগত সনদের সাথে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ যুক্ত করতে হয়। এছাড়া বাবা-মায়ের নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্র, ভাই-বোনদের পরিচয়পত্র ও শিক্ষাসনদ এবং থাকা সাপেক্ষে পাসপোর্ট বা ড্রাইভিং লাইসেন্স দাখিল করা যেতে পারে। সম্পূর্ণ নাম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের বিল, স্থানীয় কর পরিশোধের রশিদসহ বাড়তি প্রমাণপত্রও যাচাই করতে পারে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

জন্মতারিখ পরিবর্তনের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাগত সনদের পাশাপাশি অনলাইন জন্ম নিবন্ধন এবং ভাই-বোনদের জাতীয় পরিচয়পত্র সহায়ক প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হয়। পারিবারিক ওয়ারিশ সনদ, কাবিননামা, পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্সও জমা দেওয়া যেতে পারে। বিশেষ ক্ষেত্রে সিভিল সার্জনের বয়স নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রতিবেদন, চাকরিজীবীদের সার্ভিস বুক, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের শিট কিংবা দাপ্তরিক প্রত্যয়নপত্র প্রয়োজন হয়। অবসরপ্রাপ্ত চাকরিজীবীদের জন্য পেনশনের বই এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সনদ দাখিল করতে হয়।

স্থায়ী বা বর্তমান ঠিকানা পরিবর্তনের আবেদনে অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সনদ, হালনাগাদ বিদ্যুৎ বিল এবং চৌকিদারি ট্যাক্স বা পৌর করের রশিদ প্রয়োজন হতে পারে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা কিংবা সিটি করপোরেশনের আনুষ্ঠানিক প্রত্যয়নপত্রও ঠিকানা পরিবর্তনের জন্য জরুরি। আবেদন যাচাইয়ের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন যেকোনো সময় অতিরিক্ত নথি চাইতে পারে, তাই দাবির সমর্থনে যত বেশি সরকারি প্রমাণাদি সংযুক্ত করা যাবে, সংশোধন প্রক্রিয়া তত দ্রুত নিষ্পত্তির সুযোগ থাকে।