শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

ইসলামকে পুঁজি করে অলিগলিতে মাদরাসা: উমামা ফাতেমা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

ইসলামকে পুঁজি করে অলিগলিতে মাদরাসা: উমামা ফাতেমা

বিগত চার দশকে ইসলামকে পুঁজি করে দেশের অলিগলিতে ব্যাঙের ছাতার মতো মাদরাসা গড়ে উঠেছে এবং সেখানে ধর্মের নামে ভয়ের সংস্কৃতির চর্চা চলছে বলে মন্তব্য করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। শুক্রবার রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে ধর্মীয় শিক্ষার বর্তমান রূপ ও শিশুদের সুরক্ষার সংকট নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।

সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রতিক এক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে উমামা ফাতেমা প্রশ্ন তোলেন, কোনো একজন নিপীড়ক কেবল ধর্মীয় পোশাক গায়ে জড়ালেই তার সব অনৈতিক কর্মকাণ্ড বৈধতা পেয়ে যায় কি না। তিনি উল্লেখ করেন, ধর্মীয় শিক্ষার নামে দেশের গ্রাম-গঞ্জে মহামারির মতো ফতোয়াবাজির বিস্তার ঘটেছে। শৈশব থেকেই বিধিনিষেধ ও হালাল-হারামের আড়ালে মানবিক অনুভূতি এবং আত্মিক বিকাশকে সংকুচিত করা হচ্ছে। কোরআনের বাণীকে অন্যের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির বা নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার জাতিগত প্রবণতা তৈরি হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

যাঁরা ধর্মীয় শিক্ষকতার দায়িত্বে নিয়োজিত, তাঁদের দ্বীনি স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আলেম সমাজের উদ্দেশে বলেন, একজন ব্যক্তি যদি শিশুকে হেনস্তা করার চিন্তা করতে পারে, তবে তার ধর্মীয় পাঠদানের কোনো নৈতিক যোগ্যতা থাকে না।

উপমহাদেশের ধর্মীয় শিক্ষার ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিখ্যাত দেওবন্দ মাদরাসা একসময় মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মতো প্রজ্ঞাবান জাতীয় নেতৃত্ব তৈরি করেছিল, যিনি স্বাধীনতা সংগ্রাম পর্যন্ত সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমান বাংলাদেশে ইসলামের গভীর আত্মিক দর্শনের কোনো আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি বলে তিনি আক্ষেপ প্রকাশ করেন।

তার বিপরীতে গত চার দশকে ইসলামকে বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে অসংখ্য মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই ছাত্রনেতা। তিনি উল্লেখ করেন, এসব প্রতিষ্ঠানে সুস্থ চিন্তার বদলে ভয়ের সংস্কৃতি লালন করা হচ্ছে, যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক মানসিক বিকাশ ব্যাহত করছে। একই সঙ্গে এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে পরমুখাপেক্ষী ও সামাজিকভাবে সীমাবদ্ধ রেখে কিছু ধর্মীয় রাজনৈতিক দল নিজেদের রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল করছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। কর্মীদের উচিত নেতাদের প্রশ্ন করা যে তাঁরা ধর্মীয় শিক্ষার রাজনীতিকরণে কতটা সময় দেন আর সমাজে প্রকৃত আধ্যাত্মিকতা ছড়াতে কতটা ভূমিকা রাখেন।

সবশেষে নিজের কন্যাসন্তানের প্রতি হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদে যে পিতা সরাসরি চড় মেরে জবাব দিয়েছেন, তাঁর প্রতি অকুণ্ঠ ধন্যবাদ জানান উমামা ফাতেমা। চিন্তায় বিকৃত ও অনৈতিক মানুষের প্রতি কোনো কৃত্রিম সম্মান প্রদর্শন প্রকৃতপক্ষে নিজেদের সম্মানেরই অপচয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।