শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,
স্বর্ণের বাজারে ধস

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের মূল্যে বড় ধরনের দরপতন অব্যাহত রয়েছে। টানা প্রায় দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবান এই ধাতুর দাম ধারাবাহিকভাবে কমছে। বিশ্ববাজারের এই নিম্নমুখী ধারার প্রভাবে বাংলাদেশের বাজারেও মূল্যবান এই ধাতুর দাম কমিয়েছে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন বা বাজুস।

তবে বৈশ্বিক হিসাবের সঙ্গে দেশের বাজারে দাম কমার অঙ্কে দৃশ্যমান এক বড় ব্যবধান রয়ে গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, গত দুই মাসের ব্যবধানে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম কমেছে ৩৪ হাজার টাকারও বেশি। কিন্তু একই সময়ে দেশের বাজারে সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম কমেছে সাড়ে ২৩ হাজার টাকার মতো। অর্থাৎ বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে প্রতি ভরিতে প্রায় সাড়ে ১০ হাজার টাকা কম কমানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের হিসাবে দর নির্ধারিত হয়। গত ২৫ আগস্ট বিশ্ববাজারে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দর ছিল চার হাজার ৬৫৮ ডলার, যা কমতে কমতে বর্তমানে তিন হাজার ৯৯৪ ডলারে নেমে এসেছে। প্রতি ডলারের বিনিময়মূল্য ১২৫ টাকা ধরে হিসাব করলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্সে দাম কমেছে ৮৩ হাজার টাকা এবং প্রতি ভরিতে দরপতন হয়েছে ৩৪ হাজার ১৪৯ টাকা।

বাংলাদেশে স্বর্ণের স্থানীয় বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করে থাকে বাজুস। সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ আগস্ট থেকে ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত দুই মাসে দেশের বাজারে মোট ১৮ বার স্বর্ণের দামে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে ১৩ বার দাম কমানো হলেও ৫ বার বাড়ানো হয়েছিল।

টানা শেষ তিন দফায় দাম কমার পর বর্তমানে মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাটসহ সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের অলংকার বিক্রি হচ্ছে দুই লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকায়। এ ছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ দুই লাখ ১৪ হাজার ৯৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৩ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ এক লাখ ৫০ হাজার ২৩২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ গত ২৫ আগস্ট দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি স্বর্ণের দাম ছিল দুই লাখ ৪৭ হাজার ৭৪৩ টাকা। ফলে দুই মাসের ব্যবধানে দেশের বাজারে ভালো মানের স্বর্ণের দাম কমেছে ২৩ হাজার ৫৬১ টাকা।

স্বর্ণের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় দেশে কম হারে দাম কমলেও রুপার বাজারে চিত্রটি সম্পূর্ণ উল্টো।

বিশ্ববাজারের হারের চেয়ে দেশের বাজারে রুপার দর অনেক বেশি কমিয়েছে বাজুস। আন্তর্জাতিক বাজারে রুপার দাম ভরিতে প্রায় ৭৫৭ টাকা কমলেও দেশের বাজারে ভালো মানের এক ভরি রুপার অলংকারের দাম কমানো হয়েছে এক হাজার ৬৩৩ টাকা। বর্তমানে দেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার গহনা বিক্রি হচ্ছে তিন হাজার ৮৪৯ টাকায়।

বিশ্ববাজারের তুলনায় দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম কম কমানোর বিষয়ে বাজুসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশে কোনো স্বর্ণের নিজস্ব খনি না থাকায় আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণ করেই দর ঠিক করতে হয়। তবে অলংকারের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় বুলিয়ান মার্কেট বা পাকা তেজাবী স্বর্ণের প্রকৃত সরবরাহ ও দরের ওপর ভিত্তি করে সমন্বয় করা হয়। এ কারণে আন্তর্জাতিক বাজারের ওঠানামার শতভাগ হুবহু হার অনেক সময় বজায় রাখা সম্ভব হয় না।

অন্যদিকে বাজুস সভাপতি এনামুল হক দোলন দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে ঠিক যতটুকু দর কমেছে, দেশের বাজারেও সমান অনুপাতে দাম কমানো হয়েছে। বিশ্ববাজারের সঙ্গে দেশের দামের হিসাবের বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি মুঠোফোনে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর পরিবর্তে তিনি আগ্রহীদের বাজুস কার্যালয়ে এসে সরাসরি হিসাবের নথিপত্র দেখে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানান।