বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর, ২০২৬,
ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব

জামায়াত ও আওয়ামী লীগে পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ১, ২০২৬, ১২:১২ পিএম

জামায়াত ও আওয়ামী লীগে পার্থক্য নেই: উমামা ফাতেমা

জামায়াত ও আওয়ামী লীগের মধ্যে কার্যত কোনো তফাত নেই বলে দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক মুখপাত্র উমামা ফাতেমা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) নিজের ফেসবুক পাতায় দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে জুলাই-পরবর্তী দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আন্দোলনের নেতৃত্ব বণ্টন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।

গত জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে তার অভিযোগ। উমামা ফাতেমা উল্লেখ করেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে ১৭ বছরের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের সাথে ন্যূনতম সম্পর্ক না থাকা ব্যক্তিরা হঠাৎ শীর্ষ নেতৃত্বে আবির্ভূত হয়েছেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি সালাউদ্দীন আম্মারের নাম উল্লেখ করেন। তার দাবি, জুলাই আন্দোলনের সময় অন্যান্য সব ছাত্র সংগঠনকে পরিকল্পিতভাবে কোণঠাসা করে ইসলামী ছাত্রশিবির এবং সমন্বয়ক কোরামের সাথে যুক্ত ব্যক্তিদের নেতৃত্বে বসানো হয়। এর ফলেই গত ৫ আগস্টের পর থেকে অনভিজ্ঞ ও সুবিধাবাদী ব্যক্তিরা একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছে।

তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, জুলাইয়ের স্বতঃস্ফূর্ত গণআন্দোলনকে অভ্যন্তরীণ ভাই-ব্রাদার বলয় ও শিবিরের স্বার্থে জিম্মি করা হয়েছে। বিএনপির সমালোচনা দৃশ্যমান হলেও আন্দোলনের অর্জনকে ব্যবহার করে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী দেশ দখলের খেলায় মেতেছে বলে তিনি ক্ষোভ জানান।

সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন কনটেন্টকে নিরীহ ভাবার সুযোগ নেই বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

ফেসবুকে জনমত প্রভাবিত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চলছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পর্দার আড়ালে থাকা বিভিন্ন গোষ্ঠী আন্দোলনের নামে কৃত্রিম সমর্থন তৈরি করছে। মিয়ানমারে সংঘটিত রোহিঙ্গা গণহত্যার ক্ষেত্রে সামাজিক প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারের উদাহরণ টেনে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন। মধ্যবিত্ত শ্রেণির দীর্ঘদিনের রাজনীতি-বিমুখ মানসিকতার কারণেই কৃত্রিমভাবে রাতারাতি হিরো তৈরি করে তরুণদের সম্ভাবনাকে একটি নির্দিষ্ট মহলের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে তিনি অভিমত দেন।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বিকৃত করার অভিযোগ তুলে উমামা ফাতেমা বলেন, দেশের পঞ্চাশ বছরের অভিযাত্রাকে জামায়াত এখন ব্রিটিশ আমল থেকে নতুন করে বয়ান তৈরি করতে চাইছে। নিজস্ব অতীত কর্মকাণ্ড ও গণহত্যার দায় ঢাকতে দলটি দেশকে যেকোনো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।