রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

বীরগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী মনিরার স্বপ্ন থামল সড়কে, শোকে স্তব্ধ স্বজনেরা

মোজাম্মেল হক

অক্টোবর ২৫, ২০২৬, ০২:২৪ পিএম

বীরগঞ্জের মেধাবী শিক্ষার্থী মনিরার স্বপ্ন থামল সড়কে, শোকে স্তব্ধ স্বজনেরা

ছবি: দিনাজপুর টিভি

দরিদ্র পরিবারের বহু ত্যাগ আর কষ্টের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এক অদম্য মেধাবী তরুণীর জীবনপ্রদীপ নিভে গেছে মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায়। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) শিক্ষার্থী মনিরা আক্তার আর বেঁচে নেই। সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া আঞ্চলিক মহাসড়কে এক প্রাণঘাতী দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হয়েছেন। তাঁর এই আকস্মিক অকালমৃত্যুতে পরিবার, আত্মীয়স্বজন এবং পুরো বীরগঞ্জ উপজেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

নিহত মনিরা আক্তার দিনাজপুরের বীরগঞ্জ উপজেলার ৮ নম্বর ভোগনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা মো. মকবুল ইসলাম ও মোছা. রুখসানা বেগম দম্পতির সন্তান। বাবা-মায়ের দুই সন্তানের মধ্যে মনিরা ছিলেন একমাত্র মেয়ে। তাঁর একমাত্র ভাই মো. আরাফাত ইসলাম।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শারদীয় দুর্গোৎসব ও পূজার ছুটিতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে নিজ বাড়িতে এসেছিলেন মনিরা। পরিবারের সাথে ছুটি কাটিয়ে পুনরায় ক্যাম্পাসে ফেরার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। কিন্তু ফেরার পথে সিলেট-ব্রাহ্মণবাড়িয়া সড়কে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।

মনিরার শিক্ষাজীবন ছিল শুরু থেকেই অসামান্য সাফল্যে ভরা। তিনি বীরগঞ্জ সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পরীক্ষায় (এসএসসি) বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-পাঁচ অর্জন করেন। এরপর রংপুর সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক শ্রেণিতে ভর্তি হন। নিজের কঠোর পরিশ্রম, অদম্য মেধা ও অধ্যবসায়ের জোরে উচ্চশিক্ষার পথে এগিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

মনিরার বাবা-মা আর্থিকভাবে অসচ্ছল ছিলেন। কিন্তু সংসারের হাজারো টানাটানি, চরম অর্থনৈতিক সংকট আর সমাজের প্রতিকূলতার মধ্যেও তাঁরা কখনো মেয়ের লেখাপড়ার পথ বন্ধ হতে দেননি। নিজেদের সব কষ্ট আর অপ্রাপ্তি আড়াল করে মেয়ের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে দিনরাত নিরলস পরিশ্রম করেছেন।

বাবা-মায়ের একমাত্র স্বপ্ন ছিল, তাঁদের আদরের মেয়ে একদিন দেশের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা শেষ করে স্বাবলম্বী হবেন, নিজেদের অভাব দূর করবেন এবং পরিবারের মুখে হাসি ফোটাবেন।

কিন্তু পিচঢালা রাজপথের নির্মম বাস্তবতায় সেই লালিত স্বপ্ন এক নিমেষেই ভেঙে চুরমার হয়ে গেছে। যে সন্তানকে ঘিরে বেঁচে থাকার হাজারো আশা বেঁধেছিল একটি অসচ্ছল পরিবার, সেই প্রিয় সন্তানের নিথর ব্যবধানে চিরদিনের জন্য নিঃস্ব হয়ে গেছেন বাবা-মা। এক সম্ভাবনাময় মেধাবী শিক্ষার্থীর এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিদায় শুধু একটি পরিবারের জন্য নয়, পুরো বীরগঞ্জবাসীর কাছে এক অপূরণীয় বেদনার ক্ষত তৈরি করেছে।